সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
ব্যস্ততম জনপদ চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে বিভিন্ন সড়কের ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে পথচারীদের এলোপাতাড়ি চলাচল এবং বিভিন্ন মোড়ে রাস্তা পারাপারে পথচারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা কিংবা ফুটওভারব্রিজ না থাকার কারণে ইতোমধ্যে সংঘটিত অনেকগুলো ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে এসব স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের পক্ষ থেকে মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে ১৪টি বিপজ্জনক মোড়ও চিহ্নিত করা হয়েছিল।
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানায়, প্রায় ৬৫ লাখ জনঅধ্যুষিত এবং ১৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্তমানে সর্বমোট ফ্লাইওভারের সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ১০টি।
চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের (ট্রাফিক বিভাগ) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, আমরা চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানবাহন ও পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক ১৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড় চিহ্নিত করেছিলাম। এসব মোড়ে সড়ক পারাপারে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় পথচারী জনসাধারণ হাত তুলে দ্রুতগতি সম্পন্ন যানবাহনের সামনে দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। এতে করে অনেকে দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছেন। তৈরি হচ্ছে যানজট। ১৪টি স্পট চিহ্নিত করে সেসব মোড়ে ১৪টি ফুটওভারব্রিজ স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। মহানগরী পুলিশের (ট্রাফিক বিভাগ) উপপুলিশ কমশনার মো. শহিদুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, সম্প্রতি শোনা গেছে নগরীর সড়কসমূহের ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও স্পটগুলোতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক ইত্তেফাককে বলেন, মহানগরী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে বিভিন্ন বিপজ্জনক মোড়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের পরামর্শ সম্বলিত চিঠির কথা শুনেছি। তবে সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে নগরীতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে প্রেরণ করেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কের বিপজ্জনক মোড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো ব্যাপকভাবে জরিপ করা হয়েছে। এরই আলোকে যানবাহন এবং পথচারীদের দুর্ঘটনা রোধে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোতে পথচারীদের চলাচলে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে ৩৮টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রায় এক থেকে দেড়মাস আগে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। এটি সরকারের অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য পর্যায়ে এমাসের শেষে কিংবা আগামী জানুয়ারির (২০২০সাল) প্রথম সপ্তাহে উপস্থাপিত হবে।
মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর সড়ক অব্যবস্থাপনার দায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (সিডিএ) এড়াতে পারে না। তিনি বিশেষ করে সিডিএর অনন্যা আবাসিক এলাকার বিধ্বস্ত সড়কের কথা তুলে ধরেন।
এক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. নওশাদ ইত্তেফাককে বলেন, আগ্রাবাদের মতো একটি ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় গত ৪৮ বছরেও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ না হওয়াটা খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
