আবহাওয়ার অনুমান নির্ভর তথ্যে ফ্লাইট ওঠানামা চলছে

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৪

বরিশাল বিমানবন্দরে আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় প্রতিদিন বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে চলাচলরত উড়োজাহাজগুলো আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্য পায় অনুমাননির্ভর। এতে করে সপ্তাহে পাঁচ দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি প্রতিদিন বেসরকারি ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারের উড়োজাহাজ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এই বিমানবন্দর আবহাওয়া সংকেত পায় বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্য দূরত্বের কারণে যথার্থ না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. হালিম মিয়া ইত্তেফাককে জানান, সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল বিমানবন্দর তাদের কাছ থেকে বাতাসের গতি, দৃষ্টিসীমা, বাতাসের দিক, বাতাসের চাপ ও মেঘের প্রকৃতির বিষয়ে তথ্য চেয়ে থাকে। কিন্তু উড়োজাহাজ ওঠানামার ক্ষেত্রে ঐ মুহূর্তের আবহাওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে গ্যাস বেলুন উড়িয়ে শক্তিশালী লেন্সের মাধ্যমে বেলুনের গতি ধারণ করে বাতাসের প্রবাহ নির্ণয় করা হয়। আবহাওয়া প্রতিমুহূর্তেই পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাই তাদের এলাকার আবহাওয়ার তথ্য ও বিমানবন্দরের আবহাওয়ার তথ্য এক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য প্রয়োজনীয় যথার্থ তথ্য পেতে বিমানবন্দরেই আবহাওয়া স্টেশনের প্রয়োজন বলে জানান আবহাওয়া অফিসের একাধিক কর্মকর্তা।

বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক (সহকারী অ্যারোড্রাম অফিসার) রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী জানান, বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে তারা আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের বিষয়ে তিনি ঢাকায় যোগাযোগ করতে বলেন।

বিমানবন্দরের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া আবহাওয়া তথ্য ও দায়িত্বরতের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানে তীব্র শীতে কুয়াশার ঘনত্ব, বাতাসের গতি এবং দিক, আলোর পরিমাণ, বায়ুর উপরিভাগের চাপসহ গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো দিতে হচ্ছে অনুমাননির্ভরভাবে।

তবে বরিশাল বিমানবন্দর ও আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উভয় দপ্তর বিমানবন্দরে আবহাওয়া ইউনিট স্থাপনের বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান করছে।

এদিকে আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় দিনের বেলাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচলরত এই রুটে চালু হতে যাচ্ছে রাত্রিকালীন সার্ভিস। বরিশাল বিমানবন্দরের সাবস্টেশন ইঞ্জিনিয়ার (ইলেকট্রিক) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রানওয়ের লাইটিংয়ের কাজ শেষের পথে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের মধ্যেই রাত্রিকালীন সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত করা হবে রানওয়ে। দিনের বেলায় অনুমাননির্ভর এই বিমানবন্দরে রাত্রিকালীন আবহাওয়া বার্তা কীভাবে প্রদান করবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।

বরিশাল-ঢাকা রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ইত্তেফাককে জানান, আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ ওঠানামায় ঝুঁকি রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত তৃতীয় পায়রা সমুদ্রবন্দর ও ব্যাপক উন্নয়নের ফলে নতুন নতুন উদ্যোক্তরা আসছেন। এতে করে যাত্রীর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাত্রিকালীন সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় দিনের বেলাতেই ঝুঁকি থাকছে, সেক্ষেত্রে রাতে ঝুঁকি আরো বাড়ছে। তাই ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে তিনি আগে আবহাওয়া ইউনিট চালু, পরে রাত্রিকালীন সার্ভিস চালুর দাবি জানান।

এই রুটের যাত্রীরা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণের সময় একাধিকবার উড়োজাহাজ অবতরণ না করে পুনরায় ফিরে গেছে। তবে বেসরকারি বিমান ঝুঁকি নিয়ে অবতরণ করায় সে সময় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এ অবস্থায় যাত্রীর চাপ বিবেচনায় দিনের পাশাপাশি রাতেও সার্ভিস চালু করলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে না কোনো পদক্ষেপ।