মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বিক্ষোভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন যুদ্ধ করতে ও মানুষকে কীভাবে বিক্ষোভের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায় তা শিখানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নেমেছে।
ইনস্টাগ্রাম অনেকের কাছে জনপ্রিয় কারণ এটিতে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা যায়। অনলাইনে হয়রানি এড়াতে এর সেটিং অনেক কাজ দেয়।
নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন,‘ আমি টুইটার পছন্দ করি না কারণ, যখন আমি টুইটার ওপেন করি তখন এতে অনেক অপছন্দনীয় জিনিস দেখতে পাই। হোয়াটসঅ্যাপে আমার ছবি ও ভিডিওকে দেখছে বা শেয়ার করছে তা কন্ট্রোল করার উপায় নেই এবং ফেসবুকে অধিকাংশ শ্রোতা উপস্থিত নেই।’
হাজারে ১০ জন ভারতীয় নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। এ আন্দোলনের সামনে রয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গত সপ্তাহে ভারতের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত নাগরিকত্ব আইনটিতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অল্প কিছু লোকজনের নাগরিকত্ব লাভের পথ সহজ হয়েছে। যদিও, সমালোচকরা বলছেন, এ আইনটি সম্পূর্ণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে। গত রবিবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটির বিক্ষোভে পুলিশি হামলায় অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ইনস্টাগ্রামকে বেছে নিয়েছে। তারা তাদের জীবনযাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছে।
ইসলাম মির্জা নামের একজন সাবেক শিক্ষার্থী যিনি ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে জামিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য মাস্টার্স শেষ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েক হাজার ব্যবহারকারী সব সময় ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় থাকি। আমরা সদ্য অনুমোদিত ভারতের নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করতে সংগঠিত হয়েছি। আমরা ইনস্টাগ্রামকে বেছে নিয়েছি। এটিকে আমরা মেসেঞ্জার হিসেবে ব্যবহার করছি।’
অনেকেই এই প্ল্যাটফরমটি ব্যবহার করছে নতুন আইনে কি বলা হয়েছে তা অন্যকে শিখানোর জন্য। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকেও ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করার জন্য।
ঘৃণা এড়ানো
বেঙ্গালুরুর ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটির পলিসি অফিসার তোর্শা সরকার বলেন,‘ টুইটারের মতো ঘৃণিত ও হয়রানিমূলক কনটেন্ট থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ইনস্টাগ্রাম তাদের সেটিংস ঠিক করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবহারকারীদের। ’
যদিও এটি সম্পূর্ণ একমুখী আইন নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারকে সমর্থন করতে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন।
চীনভিত্তিক টিকটকে ব্যবহারকারীরা ছোটো ছোটো ভিডিও তৈরি করে তা শেয়ার করছেন। এতে অনেকেই নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করেও অনেক কনটেন্ট শেয়ার করেছে। @monuqureshi142 নামের একটি আইডি থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। এতে দুইটি মহিলাকেও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাদা জাম্পার ও নীল রঙের জিন্স পরিহিত ও অপর জনকে বোরকা পরা অবস্থাতে জামিয়া ইউনিভার্সিটির মূল ফটোকে হাজার হাজার জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটিতে একটি পুরুষ কণ্ঠে ডাবিং করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘যখন আমরা আমাদের অধিকারের কথা বলি তখন তারা আমাদের হতাশ করে। সরকার ও পুলিশ এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে অজ্ঞতা দেখায়। সমস্ত মুসলমানরা একত্রিত হোন.......’
সূত্র : রয়টার্স
