করাচি টেস্ট
স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রথম টেস্টে অভিষেক সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিলেন আবিদ আলি। করাচিতে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৩৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই আবিদ আলির দিকে চেয়ে আছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত বিনা উইকেটে ৫৭ রান তুলেছে পাকিস্তান। আবিদ ৩২ রানে ব্যাট করছেন।
প্রথম ইনিংসে বাবর আজম ও আসাদ শফিকের দুটো ষাটোর্ধ্ব ইনিংসের পরও পাকিস্তান ১৯১ রানে অলআউট হয়। জবাবে শ্রীলঙ্কা ২৭১ রানে গতকাল তাদের ইনিংস শেষ করে।
৩ উইকেটে ৬৪ রান নিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ম্যাথুস ও এম্বুলদেনিয়া ১৩ রান করে আউট হন। এরপর দলকে ইনিংসের সবচেয়ে ভালো সময়টা এনে দেন দিনেশ চান্দিমাল। তিনি নিজে ১৪৩ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। সঙ্গে ডি সিলভা ৩২ ও শেষ দিকে পেরেরা এসে ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন।
শাহিন শাহ আফ্রিদি ৭৭ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন। এ ছাড়া মোহাম্মদ আব্বাস ৫৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার করাচিতে ১৯১ রানেই শেষ হয় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। লঙ্কানরা দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ৬৪ রান নিয়ে।
মেঘলা আকাশের নিচে সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। কন্ডিশনের খানিকটা সহায়তা নিয়ে দারুণ লাইন-লেংথে ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলেন লঙ্কান পেসাররা। ষষ্ঠ ওভারে তিন বলের মধ্যে ওপেনার শান মাসুদ ও অধিনায়ক আজহার আলিকে বোল্ড করে দেন বিশ্ব ফার্নান্দো।
১০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তান প্রতিরোধ গড়ে আগের টেস্টের দুই সেঞ্চুরিয়ান আবিদ আলি ও বাবর আজমের ব্যাটে।
বাবর শুরুতে ছিলেন কিছুটা নড়বড়ে। একাদশ ওভারে ফার্নান্দোর বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর টিকে যান রিভিউ নিয়ে। ৫৫ রানের এই জুটি ভাঙে আবিদের বিদায়ে। কুমারার বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ৩৮ রান করা ওপেনার।
শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে বাবর পরে খুঁজে পান ছন্দ। লাঞ্চের পর দিলরুয়ান পেরেরাকে বাউন্ডারিতে স্পর্শ করেন ফিফটি। এরপর অবশ্য আর বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি। এম্বুলদেনিয়াকে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হয়ে স্টাম্পড হয়ে যান ৬০ রানে।
এরপর এক প্রান্তে টিকে ছিলেন আসাদ শফিক, অন্য প্রান্তে ছিল ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া। শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কে। ২৪ রানে শেষ ছয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সর্বোচ্চ ৬৩ রান করে শফিক আউট হন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে।
৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার কুমারা। এম্বুলদেনিয়া ৪ উইকেট নেন ৭১ রান খরচায়। অন্য দুটি পান ফার্নান্দো। শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের আনন্দ অনেকটা মিলিয়ে যায় ব্যাটিংয়ে নেমে। ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দো ৪ রানে ফেরেন শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে।
