'পুলিশ সদস্য আব্দুল আলিমের হাতে খুন হয়েছে আমার মেয়ে রিপনা ও নাতনি মুন্নী খাতুন। আলিম পরিবার আমার পরিবারের মোট তিনজনকে খুন করেছে। অথচ এ খুনের কোনও বিাচার হলো না এতদিনেও। এখন সে ও তার সহযোগীরা আমাকেও খুন করতে চায়।' শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মেহেরুননেছা।
এ সময় তিনি বলেন, 'সাতক্ষীরায় এসেছি অনেক ভয়ে ভয়ে কারণ আলিমের লোকজন আমাদের অনুসরণ করছে।'
মেহেরুন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, 'আমার মেয়ে রিপনার সঙ্গে বিবাহপূর্ব ভালোবাসা ছিল একই গ্রামের আলিমের। একদিন আমার মেয়েকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আলিম ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা তার ওপর চাপ দেই রিপনাকে বিয়ে করার। সে রাজি না হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিতেও ব্যর্থ হই গ্রাম মোড়লদের চাপের মুখে। এরপর আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেই আমার ভাতিজা আবু মুসার সঙ্গে। তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে, নাম রাখা হয় মুন্নী খাতুন।'
তিনি বলেন, 'আবদুল আলিম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায় চাকুরিরত অবস্থায় শ্যামনগর উপজেলার খানপুরে বিয়ে করে। বিয়ের পরও আলিম আমার মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে সম্পর্ক রাখতো। এক মাসের মোবাইল কললিস্টে দেখা গেছে আলিম তার স্ত্রীর সঙ্গে ৩৩ বার আর আমার মেয়ের সঙ্গে ৩২৪ বার কথা বলেছে।'
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, '২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আমার মেয়ে নাতনিকে নিয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখাতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ। এ বিষয়ে তার স্বামী আবু মুসা মহেশপুর থানায় একটি জিডি করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি তারা জানতে পারেন যাদবপুর গ্রামের শালি খাতুন ও রোকেয়া তাকে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে আব্দুল আলিমের কাছে তুলে দিয়েছে।'
কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরও বলেন, 'হঠাৎ আমরা জানতে পারি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ছুটিপুর গ্রামে ইছামতি নদীর চরে মাটিতে পুঁতে রাখা নাতনি মুন্নী খাতুনের (৫) লাশ এবং এর তিনদিন পর কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রাম সংলগ্ন কালিন্দি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রিপনার (২২) পঁচা গলা লাশ। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানা ও দেবহাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। নিহতদের সাতক্ষীরা সরকারি গোরস্থানে দাফন করা হয়।'
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'এই দুই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আলিমকে গ্রেফতার করে। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। কিছুদিন পর সে জামিনে ফিরে আসে। আলিম এখন সাসপেন্ড অবস্থায় রয়েছে। একদিকে সে বারবার মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলছে, মামলা থেকে সরে না এলে আরও খুন হবে। আমি আমার মেয়ে রিপনা ও নাতনি মুন্নী হত্যার বিচার চাই।'
মেহেরুন বলেন, 'পুলিশ সদস্য আলিমের বাবা আবদুল খালেক আমার ভাই হযরত আলিকে খুন করে বাড়ির বারান্দায় পুঁতে রাখে। পরে পাশের একটি বাগানে বস্তায় পুরে লাশটি দ্বিতীয় দফায় পুঁতে রখে। এ ঘটনায় খালেক গ্রেফতার হয়। সাজাও হয় তার। এই আলিম পরিবার আমার পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর এবার আমাকেও খুন করতে চায়।' অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'আমি এর বিচার দেখে যেতে চাই।'
আরও পড়ুন: আড়াই বছরের শিশুকে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে
আলিম একজন হত্যাকারী উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে তার শাস্তি দাবি করে মেহেরুননেছা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
ইত্তেফাক/নূহু
