‘দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন’
আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা
‘দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন, একদাম এক রেট, একটা নিলে একটা ফ্রি’ এভাবেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হাঁকডাক ছাড়ছেন পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের কাপড় ব্যবসায়ীরা। শৈত্যপ্রবাহের কারণে গত চার দিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষ ছুটছেন কম দামে শীতের গরম কাপড় কিনতে। আর তাদের জন্যই রংপুরের পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে গড়ে উঠেছে ‘হঠাত্ মার্কেট’।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ এই মার্কেটে শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন গরম পোশাক কিনছেন সবাই। যাদের আয় বেশি তারা বিভিন্ন নামি-দামি মার্কেট থেকে গরম কাপড় কিনতে পারলেও গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা রেলওয়ে স্টেশনের ‘হঠাত্ মার্কেট’। বছরের অন্যান্য সময় এখানে তেমন দোকান না থাকলেও শীতকে কেন্দ্র করে ব্যবসা জমজমাট হয়।
‘হঠাত্ মার্কেটের’ বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিনই শত শত নিম্নবিত্ত মানুষ শীতের কাপড় কিনতে এখানে আসছেন। এ মার্কেটে ক্রেতাদের সামর্থ্য মতো বিভিন্ন দামে শীতের কাপড় পাওয়া যায়। ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে ছোটো-বড়োদের জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটার, হাতমোজা, কোট ও টুপি সবই মিলছে এসব দোকানে। নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও পোশাক কিনছেন এসব দোকান থেকে। শীতের তীব্রতায় বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা। ফুটপাতের দোকানগুলোতে দাম একটু কম হওয়ায় বেচাকেনা জমে উঠেছে। এ চাহিদা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
চন্ডিপুর থেকে আসা ক্রেতা রুজিনা বেগম বলেন, ‘অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় এখানে দাম অনেক কম। শীতের সময় এ মার্কেট থেকে অনেক কম দামে শীতের পোশাক কিনতে পারি। বড়ো-বড়ো মার্কেটের একটি পোশাকের দাম দিয়ে এখানে পরিবারের সবার শীতের পোশাক কেনা যায়’। বিক্রেতা আব্দুস ছালাম বলেন, ‘পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে গড়ে ওঠা হঠাত্ মার্কেটে বাহারি রঙের শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। এখানে নিম্নবিত্তরা কাপড় কিনলেও বর্তমানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কাপড় কিনছেন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই দিন থেকে বিক্রি বেড়েছে।’
