উপমহাদেশের উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরিচালনার ভার আবারও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই দিলেন দলের কাউন্সিলররা। এনিয়ে টানা নবমবারের মতো সভানেত্রী নির্বাচিত হলেন তিনি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনা এবার নতুন কারো হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেও কাউন্সিলে উপস্থিত নবীন-প্রবীণ নেতারা অনড় অবস্থান নিয়ে নৌকার হাল তার হাতেই অর্পণ করেন। অন্যদিকে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের নির্বাচিত করা হয়। এর মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে আওয়ামী লীগ। নতুন কমিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন নেই কমিটিতে। নেই তেমন কোনো চমকও। পুরোনো নেতায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের প্রেসিডিয়াম পদে নতুন করে তিনজনের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার ১১ জন সদস্য বিগত কমিটির বিভিন্ন পদে ছিলেন। দলের নতুন কমিটিতে এরমধ্যে সাত জন আপাতত বাদ পড়েছেন। তারা হলেন: বিগত কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুনশি, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া অপর চার মন্ত্রী হলেন :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
যেভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন :রেওয়াজ অনুযায়ী দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরে মঞ্চে আসে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন। দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে এ কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন: উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও সাইদুর রহমান। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু সভাপতি পদে আবার শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন। তাতে সমর্থন দেন প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। অন্য কোনো নামের প্রস্তাব না থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ হাসিনাকে টানা নবমবারের মতো দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সামনে সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান তাতে সমর্থন দেন। এই পদের জন্যও অন্য কোনো নামের প্রস্তাব আসেনি। ফলে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সাধারণ সম্পাদক পদে কাদেরকেই নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এসময় সাড়ে ৭ হাজার কাউন্সিলর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
আবারও সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় কাউন্সিলরসহ দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছি। ৩৯ বছর চলছে। আমি কোনো পদে থাকি বা না থাকি আওয়ামী লীগে আছি, এখানেই থাকব। এটাই আমার পরিবার। নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার চলার পথের শক্তি। তবে সামনে আপনাদের ভাবতে হবে। আমার ৭৩ বছর বয়স হয়েছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। নতুন নেতা নিয়ে ভাবতে হবে। দলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’
দলের কাছ থেকে নিজের ‘ছুটি’ প্রত্যাশা করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাচ্ছিলাম যে এই দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলাম, অন্তত আমাকে একটু ছুটি দেবেন। কিন্তু যে গুরুদায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন তা যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি তার জন্য সবার দোয়া চাই, সমর্থন চাই।’
এরপর শেখ হাসিনা ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে ৪১ জনের নাম ঘোষণা করেন এবং কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন করিয়ে নেন। পাশাপাশি দলের উপদেষ্টা পরিষদ (আংশিক), প্রেসিডিয়াম এবং সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের নামও ঘোষণা করেন। নতুন কমিটিতে পুরোনো অনেকেই নিজ নিজ স্থান ধরে রেখেছেন, কেউ কেউ কমিটিতে পদক্রমে উত্তরণও পেয়েছেন।
প্রেসিডিয়ামে ৩ নতুন মুখ :১৯ সদস্যের প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে গতকাল ১৭ জনের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তারা হলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, ড. আবদুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, ফারুক খান, আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। পদাধিকারবলে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য। প্রেসিডিয়ামে এবার তিন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।
এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নাম। আগের কমিটির দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নানক ও আব্দুর রহমান নতুন এই কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে। বাকি দুই জন মাহবুব-উল আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনি ধরে রেখেছেন নিজেদের পদ। আর আগের কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকা বাহাউদ্দিন নাছিম এই কমিটিতে উঠে এসেছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে।
আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন হারুনুর রশিদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস নতুন কমিটিতেও নিজ নিজ সম্পাদক পদ ধরে রেখেছেন। বাকি সম্পাদক পদগুলোর মধ্যে আইনবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন নজিবুল্লাহ হিরু, দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মেহের আফরোজ চুমকী।
কোষাধ্যক্ষ পদে এবার নতুন কারো নাম ঘোষণা করেননি শেখ হাসিনা। এন এইচ আশিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই এ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আগের কমিটির আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঙ্গে এবার নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছে এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজমের নাম। বাকি তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ খালি রয়েছে। এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য ছিলেন।
উপদেষ্টা পরিষদে আগের কমিটির সদস্যদের নাম পড়ে শুনিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবার যেহেতু উপদেষ্টার ১০টি পদ বাড়ানো হয়েছে, বাকিদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ হয়েছেন নতুন কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবার পুরো দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে আগের কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রথম দফায় কমিটিতে স্থান পাননি। অবশ্য কমিটির কয়েকটি সম্পাদক পদ ছাড়াও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়নি কাউন্সিলে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বসে সব সদস্যের নাম ঠিক করবেন। তাদের নাম এখনই ঘোষণা করতে পারব না।’
আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বোর্ড গঠন :আগামী ২০১৯-২০২১ সালের জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার বা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ড ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের নামও ঘোষণা করেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা হলেন: শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, ওবায়দুল কাদের ও মো. রশিদুল আলম।
স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা হলেন: শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ওবায়দুল কাদের, মো. রশিদুল আলম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ।
উপদেষ্টা পরিষদের যারা :৫১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের ৪০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—ডা. এস এ মালেক, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট সৈয়দ আবু নসর, শ্রী সতীশ চন্দ্র রায়, অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক, অধ্যাপক ডা. রুহুল হক, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, কাজী আকরাম উদ্দীন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক ড. হামিদা বানু, অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুর, অধ্যাপক সুলতানা শফি, এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, মোহাম্মদ জমির, গোলাম মওলা নকশাবন্দি, ড. মির্জা এম এ জলিল, ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খান, ড. গওহর রিজভী, মো. রশিদুল আলম, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কাজী সিরাজুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, মোজাফফর হোসেন পল্টু, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, মুকুল বোস, সালমান এফ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আতাউর রহমান ও জয়নাল হাজারী। বাকি ১১টি পদ পরে আলোচনা করে পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
অধিবেশনের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। পরে সাংগঠনিক প্রতিবেদন দাখিল করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অর্থ রিপোর্ট পড়ে শোনান দলের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান। এরপর শুরু হয় তৃণমূল থেকে আসা কাউন্সিলরদের বক্তব্য। বিভাগীয় পর্যায়ের সাত জেলা থেকে সাত জন নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে অনেকে রাজাকার, আলবদর, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদককে প্রশ্রয় দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের দল থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেন। পরে গঠনতন্ত্র সংশোধনী, ঘোষণাপত্র পরিমার্জনসহ বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সদ্য বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, সংসদীয় ও স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ড বিলুপ্তি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
কমিটিতে নতুন মুখ শাজাহান ও চুমকি :আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটিতে নতুন মুখ দুই জন। প্রেসিডিয়াম পদে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
পদোন্নতি হলো যাদের :সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। কার্যনির্বাহী সদস্য থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু নতুন কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন। উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া হয়েছেন দপ্তর সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক থেকে প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
কমিটিতে ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ১৯ জন, চট্টগ্রামের ৯ :আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ১৯ জন, চট্টগ্রামের নয় জন ও রাজশাহীর তিন জন রয়েছেন। এছাড়া খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুই জন করে এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগের এক জন করে নেতা স্থান পেয়েছেন।
সংশোধনী :গতকাল শনিবার ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় ‘ভোগ নয়, ত্যাগের রাজনীতি করতে করতে হবে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ভুলক্রমে আওয়ামী লীগের সন্মেলন গতকাল শনিবার উদ্বোধন হয়েছে ছাপা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শনিবারের স্থলে শুক্রবার হবে।
