কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কলঙ্কজনক আখ্যা দিয়ে নির্বাচনের বছর পূর্তির দিনকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দিবসটিতে কালো পতাকা মিছিল অথবা অনুমতি সাপেক্ষে রাজধানী ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তার মুক্তির দাবিতে ‘কার্যকর আন্দোলন’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। এছাড়া স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৈঠকে সদ্য প্রয়াত ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ১৯ জানুয়ারি পালনেরও সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের এনআরসি নিয়ে বিএনপি তার অবস্থান জানিয়ে আজ রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিকে অভিনন্দন
জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যেহেতু নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা আশা করব, তারা অতীতের অপকর্মগুলোকে ভুলে গিয়ে জনগণের অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করবার জন্য অতিদ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
ককটেল বিস্ফোরণ
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুই দফায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ও রাত আটটার দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আরো ৫৮ জন নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদেরই একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে।
