তরুণদের লক্ষ্য নির্ধারণের তাগিদ নান্নুর

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:১৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে নজর কাড়ছেন বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটার। বিশেষ করে তিন তরুণ পেসারের বোলিং প্রশংসিত হচ্ছে। বল হাতে মেহেদী হাসান রানা, হাসান মাহমুদ, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরছেন। ব্যাট হাতে নাঈম শেখ ধারাবাহিক রান করেছেন।

এসব তরুণের বড়ো লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। শুধু টি-২০ নয়, তিন ফরম্যাটের জন্যই তাদের প্রস্তুত হতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্তত ১০ বছর, ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৫ বছর ধারাবাহিক পারফর্ম করার লক্ষ্য স্থির করতে বলেছেন প্রধান নির্বাচক। বিপিএলে এক-দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই এসব তরুণকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হতে চান না নান্নু।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে গতকাল ছিল বিরতি। চট্টগ্রামে রানা-হাসানদের মতো তরুণ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের লক্ষ্য সম্পর্কে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘যেকোনো ইয়াংস্টারের কাজ হলো তাকে চিন্তাভাবনা করতে হবে যেন ১৫ বছর টানা মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলতে পারে। একটি বা দুটি ম্যাচ দিয়ে একজন ক্রিকেটারকে বিবেচনা করা যায় না। একজন ক্রিকেটারের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৫ বছরের একটা লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য অন্তত ১০ বছরের একটা লক্ষ্য ঠিক করতে হবে।’

লম্বা সময়ের জন্য দেশকে সার্ভিস দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তরুণদের। গতকাল নান্নু বলেছেন, ‘সে যেন একবার দলে ঢুকলে ১০ বছর দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। এ ধরনের লক্ষ্য ঠিক না করলে কোনো দিন পারফরম্যান্স একটা মানে থাকে না। সুতরাং একটি, দুটি ম্যাচ দেখে, একটি বল করে বা আউটস্ট্যান্ডিং ডেলিভারি দিয়ে একজন ক্রিকেটারকে বিবেচনা করা যায় না।’

তিন ফরম্যাটের জন্যই তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। গতকাল নান্নু বলেছেন, ‘তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই তাকে তৈরি করতে হয়। তিন ফরম্যাটেই ওকে ভালো ক্রিকেটটা খেলতে হবে। এরপর আপনাকে বিবেচনায় আনতে হবে যে এ ক্রিকেটার কতটা জেতাতে পারবে।’

রংপুরের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে ১৫৬ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার নাঈম শেখ। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামের পেসার মেহেদী হাসান রানা নিয়েছেন ১৩ উইকেট। গতকাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা উইকেটশিকারি এই বাঁহাতি পেসার। ঢাকার ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ ৪ ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছেন। ৩ ম্যাচে রংপুরের মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ পেয়েছেন ৩ উইকেট। গতির সঙ্গে সুইং মিলিয়ে বিপিএলে নজর কেড়েছেন এ তরুণ পেসারত্রয়ী।

বিপিএলে কয়েক ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই এসব তরুণকে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে রাজি নন প্রধান নির্বাচক। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সবসময় কঠিন মঞ্চ। তবে তারা সবাই সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার। তরুণদের বিবেচনা করা প্রসঙ্গে নান্নু বলেছেন, ‘এখানে কিন্তু অনেক কিছু বিবেচনায় আনতে হয়। একটা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এবং অন্য দেশের সঙ্গে খেলা অন্য ব্যাপার। আপনি দেখবেন যে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেকের পারফরম্যান্স অনেক উঁচুতে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসলে আর সেই ছেলে পারফরম্যান্স করতে পারে না। তাই অনেক কিছু বিবেচনা করে দল গঠন করতে হয়। আমরা এখানে অবশ্যই দেখছি তরুণদের।’ তবে এইচপির ক্রিকেটারদের পারফর্ম করতে দেখে খুশি নান্নু। নিবিড় পরিচর্যার পর এইচপির ক্রিকেটারদের উন্নতি ভালো দিক বলে মনে করেন তিনি।