ইয়াবা কেড়ে নিল ‘এ’ লেভেলের ছাত্রী স্বর্ণার প্রাণ

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৫

ঢাকার কোতোয়ালি চকবাজারের ৭ নম্বর বেগমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী হারুন-উর-রশিদ পাপ্পুর মেয়ে স্বর্ণা রশিদ (২২)। পড়তেন ‘এ লেভেলে’। বাড়িতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গত শুক্রবার ১০-১২ জন বন্ধু নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন স্বর্ণা। সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে ওশান প্যারাডাইসের সামনে হোটেল জামানে তারা কক্ষ ভাড়া নেন। হোটেলটি ইয়াবাসম্রাট শাহজাহান আনসারীর। তিনি কারাগারে রয়েছেন।

হোটেলে উঠে বিকালে সৈকত ভ্রমণে যান স্বর্ণারা। সন্ধ্যার দিকে হোটেলে ফিরে বন্ধুবান্ধব সবাই মাদক সেবনে মত্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন স্বর্ণা রশিদ। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। স্বর্ণার বন্ধু ওয়ালীর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেখে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভর্তি করেননি। ফিরে যাওয়ার পর আবারও মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বন্ধুরা। রাত তখন সাড়ে ৯টা। ততক্ষণে তার প্রাণবায়ু নিভে গেছে।’ ডা. শাহীনের মতে, অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। সহপাঠীদের অনেকেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয় ওয়ালী আহমদ খান নামে তার এক বন্ধুকে। আটক ওয়ালী ঢাকার ২২ সিদ্ধেশ্বরী রোডের মনিমান টাওয়ারের বাসিন্দা আলী রেজা খানের ছেলে। পুলিশ তাকে সন্দেহজনক ধারায় আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. শরীফ উল্লাহ জানান, মূলত স্বর্ণা তার মামার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেই বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে চলে আসেন। শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুর খবর পেয়ে শনিবার সকালে ব্যবসায়ী বাবাসহ পরিবারের আরো কয়েক সদস্য ছুটে আসেন কক্সবাজারে। সদর মডেল থানার ওসি শাহজাহান কবির বলেন, শোকাহত পিতা মেয়ের কথা বলতে বলতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতেই ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্বর্ণার মরদেহ।