পড়ন্ত বিকেল। ঘরমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আবাসিক শিক্ষার্থীরাও ভিড় জমাচ্ছেন চায়ের দোকান ও ক্যান্টিনে। তখন কালো রঙের একটি গাড়ি এসে থামে খোঁড়া চাচার দোকানের সামনে। ছিপছিপে গড়নের ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি দেহের মানুষটি গাড়ি থেকে নামতেই আড্ডা পায় অনন্য মাত্রা। আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে চায়ের দোকান। শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বেদনায় মিশে যাওয়া সেই মানুষটি যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. শাহজাহান মণ্ডল!
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের আড্ডায় অংশ নেয়া অনেক শিক্ষার্থীই আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে কর্মরত। অথচ স্যারের আড্ডা চলে এখনো আগের মতোই। প্রতিটি শিক্ষার্থীই আলো খুঁজে পান এখানে এসে। হতাশাগ্রস্তরাও হয়ে ওঠেন প্রবল আত্মপ্রত্যয়ী। এই জাদু দেখতে হলে আসতে হবে এই চায়ের আড্ডায়। এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশের চলমান সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় মেতে ওঠেন ক্লাসরুমের বাইরের এক অন্য মানুষ। নিজেকে চেনার হাতেখড়ি দেন ছোট ছোট বাক্যে।
নিত্যদিনের এই আড্ডা থেকেই স্যার তার হাতে থাকা রেকর্ডবুকে টুকে নেন শিক্ষার্থীদের কার কি সমস্যা। এভাবেই তাদের আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক কর্মকাণ্ডের উই উইকিপিডিয়ায় পরিণত হয় স্যারের ডায়রি। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্যাটাল ডিজিজি রিকভারি ফাউন্ডেশন (এফডিআরএফ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফান্ডে শিক্ষার্থীদের চিকিত্সার জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা জমানোর ব্যবস্থা করেছেন এই অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, তারুণ্য, মুক্ত বাংলা সাহিত্য সংগঠনের জন্য প্রতিনিয়ত অনেক কাজ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই আড্ডা থেকেই উঠে যাওয়া শিক্ষার্থীরা যখন স্যার হয়ে বদলে যান রাতারাতি তখনও ড. শাহজাহান মণ্ডল থেকে যান সাধারণ একজন মানুষ। একজন শিক্ষক কিংবা একজন শিক্ষার্থী!
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শাহজাহান মণ্ডল বলেন, বহু শিক্ষার্থীর মাঝে এখনো অনেক হতাশা, মানসিক বিষন্নতা, আর্থিক সমস্যা রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে যদি কিছু করতে পারি, এতে যেমন একদিকে ভালো লাগা কাজ করে অন্যদিকে একটি সুস্থ্য জাতি গঠনের চিন্তা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
ইত্তেফাক/এএম
