এমপি বাদশাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জিডি

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৫

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এমপি বাদশার পক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য মনির উদ্দিন পান্না রবিবার রাতে এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, রবিবার সকাল থেকে রাজশাহী মহানগরীর পবা নতুনপাড়া এলাকার গাঙপাড়া খালের দুই পাশের বাড়ি-ঘর ও স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। মাত্র তিন দিনের নোটিশে শীতের মধ্যে ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করায় সেখানে ছুটে যান রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। মানবিক কারণে শীতের মধ্যে উচ্ছেদ না করার জন্য তিনি সুপারিশ করেন এবং উচ্ছেদের শিকার এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সেখানে অবস্থান নেন। অবস্থানকালে দুপুর ১টা ৪ মিনিটে সাম্যবাদী দলের বহিষ্কৃত নেতা মাসুদ রানা ০১৯৩৯৪৭২৮৫১ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে ফজলে হোসেন বাদশাকে ফোন করে তাকে গাঙপাড়া থেকে সরে যেতে বলেন। তা না হলে সংসদ সদস্যসহ বস্তিবাসীর সমস্যা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমনকি গাঙপাড়া থেকে না সরলে ‘প্রাণ থাকবে না’ বলেও হুমকি দেন মাসুদ রানা।

আরও পড়ুন: রাবিতে আন্তর্জাতিক ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন সমাপ্ত

এদিকে, হুমকির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পার্টির পক্ষ থেকে অবিলম্বে হুমকি দাতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের শরীক সাম্যবাদি দলের মহানগর শাখার সাবেক সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, ‘রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে এমপি বাদশাকে ফোন করে রাজশাহীর স্বার্থে নদী দখলদারদের পক্ষে অবস্থান না নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। এসময় তাকে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধসহ বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে আমার মরহুম মুক্তিযোদ্ধা পিতাকে তুলে গালাগালি করেন। আমি তার প্রতিবাদ করলে তিনি (বাদশা) আমার হাত-পা কেটে নেয়ার হুমকি দেন। যা তার ফোনে রেকর্ড রয়েছে। এর পর ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবুও তাকে ফোন করে হুমকি দেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন, সাংসদ বাদশার পক্ষে একটি জিডি গ্রহণ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআরএম