গত এক দশকে বাংলাদেশের যেসব খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তার অন্যতম মত্স্য। এক্ষেত্রে সরকারের কী কী উদ্যোগ ছিল?
মো. আশরাফ আলী খান খসরু : মত্স্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। তিনি কুমিল্লায় এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘মত্স্য হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত। এই সম্পদ দেশীয়ভাবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করব এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব।’ কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আমরা এই লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাছাড়া এ ব্যাপারে পরবর্তী সরকারগুলোও তেমন পৃষ্ঠপোষকতা দেয়নি। আসলে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। এটাই আমাদের ঐতিহ্য। কারণ, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এটা হাওর-বাওরের দেশ। এর বিস্তীর্ণ অঞ্চল সমুদ্রের সঙ্গে জড়িত।
১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মত্স্য ও কৃষি খাত উন্নয়নকল্পে দৃঢ়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। লক্ষ্য ছিল, ‘আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি’র ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা। তিনি বঙ্গবন্ধুর ‘বাংলাদেশ মত্স্য খাতে হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়কারী দেশ’-এর দিকে নজর দিলেন। সেই সঙ্গে আমাদের যে মত্স্য হ্যাচারি ও খামারগুলো ছিল, এগুলোর আরো উন্নয়নে কাজ শুরু করলেন। এ জন্য নতুন প্রকল্প হাতে নিলেন এবং কাজে অনেক গতি এলো। পৃথিবীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো বলেছিল, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল হলো বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। কারণ তখন দেশের মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি ও শিল্প খাতে শেখ হাসিনা উন্নয়নমূলক পরিবর্তন এনেছিলেন। ২০০৮-এর সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিল। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মত্স্য ও প্রাণিসম্পদে আবার হাত দিলেন। কৃষিতে হাত দিলেন। তিনি ইউরিয়া সারের দাম কমিয়ে দিলেন। ডিএমপি সারের দাম কমালেন। যেটা ছিল ৮০ টাকা কেজি, সেটাকে ২৫-৩০ টাকায় নিয়ে এলেন। কৃষিতে একটা আমূল পরিবর্তন এলো। যদিও প্রথম বছরেই আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি। আমাদের দেশকে আগে বলা হতো ‘দুর্ভিক্ষের দেশ’, ‘মঙ্গার দেশ’। ফাল্গুন-চৈত্র এলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ভাটি অঞ্চলে আকাল দেখা দিত। রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে হতো মঙ্গা। সরকার কৃষিঋণ সহজলভ্য করে দিলেন। যারা বর্গা চাষ করত, তাদেরও ঋণ দিলেন। আগে সারের জন্য কৃষককে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উপজেলা বা জেলা শহরে আসতে হতো। শেখ হাসিনা ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের খুচরা ডিলার দিলেন। এর ফলে ছোট চাষিরা অল্প সার হলেও সহজে কিনতে পারল। খুচরা ডিলারের কাছে পাঁচ কেজি, এমনকি এক কেজি সারও কেনা যায়। ফলে আরো পরিবর্তন এলো। আমরা আস্তে আস্তে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেলাম। এখন তো আমাদের খাদ্যে উদ্বৃত্তও থাকে। এই সরকার মত্স্য খাতকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন কর্মসূচি নিলেন। যেমন :খাল খনন, মজা পুকুর খনন, ভরাট হতে থাকা বিল খনন প্রভৃতি। ছোট-বড়ো এমন নানা প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি মত্স্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিলেন। কারেন্ট জাল, মশারি জাল নিষিদ্ধ করা হলো। এতে মাছের রেণু ও পোনাগুলো বেঁচে গেল। এগুলো বড়ো হলো। ফলে মাছগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
মিঠা পানির মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইলিশের উত্পাদনও বেড়েছে; ইলিশ রক্ষায় আপনারা কী ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন?
মো. আশরাফ আলী খান খসরু : ইলিশ আমাদের দেশ থেকে প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। সাগরের মোহনায় চলে গিয়েছিল। পদ্মা, মেঘনা বা যমুনায় ইলিশ পাওয়া যেত না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪-১৫ সালের দিকে উদ্যোগ নিলেন, একটা নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে প্রজনন বা ডিম ছাড়ার সময় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। ৬৫ দিন সমুদ্রে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলেন। গত বছর থেকে এটা আমরা কার্যকর করলাম। জাটকা ইলিশ প্রায় ৬ মাস ধরা বন্ধ থাকল। দেখা গেল, ইলিশের পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে। এবার ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৬৫ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে চাইলেন। আমাকে বললেন, ‘তুমি এটা পারবে নাকি?’ আমরা ৬৫ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলাম। প্রধানমন্ত্রী এই সময়টায় সপ্তাহে ৪০ কেজি করে চাল প্রত্যেকটা জেলে পরিবারকে দিলেন। ডিম পাড়া মৌসুম ও জাটকা মৌসুমের জন্য যথাক্রমে ৬৫ ও ২২ দিনে ৫৬ হাজার টন চাল জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আশ্বিনের পূর্ণিমার চারদিন আগে এবং চারদিন পরে, মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। আর প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়টায় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখাটা খুব ফলপ্রদ হলো। এখন ইলিশ উত্পাদনে বাংলাদেশ ১ নম্বরে। একই ভাবে অ্যাকুয়া কালচারে, মানে পুকুর-দিঘিতে মাছ চাষে আমরা তৃতীয়-চতুর্থ স্থানে ওঠানামা করছি। তেলাপিয়া মাছ উত্পাদনে আমরা আছি পঞ্চম স্থানে। দেশীয় ৬০ প্রজাতির মাছ দেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। মত্স্য গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা ২০-এর বেশি প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে এনেছি। বাকিগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে। যেমন :শিং, মাগুর, পাবদা, খৈলসা, টেংরা প্রভৃতি। এগুলো কিন্তু হারিয়ে গিয়েছিল। খুব কম দেখা যেত। বাজারে পাওয়া যেত বারো শ-তেরো শ টাকা কেজি। গবেষণার মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে রেণু ফুটিয়ে এমন অবস্থায় এনেছি, এখন এসব মাছ প্রতি কেজি চার শ-পাঁচ শ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শিং-মাগুর তো এখন খুব সহজলভ্য। সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে এসে গেছে।
আরো কিছু অপ্রচলিত মত্স্যসম্পদ আছে। যেমন :কাঁকড়া। আমরা গবেষণার মাধ্যমে কাঁকড়ার রেণুও ফোটাতে পেরেছি। বিদেশে এর অনেক চাহিদাও রয়েছে। আরেকটা হলো কুঁচে/কুঁচিয়া; বাইন মাছের মতো দেখতে। কুঁচিয়া কিন্তু খুব সেন্সেটিভ মাছ। এটা এমনিতে খাবার খেতে চায় না। আমরা গবেষণার মাধ্যমে এটারও রেণু ফোটাতে পেরেছি। এটা উন্মুক্ত জলাশয়ে হয়। বিদেশে কুঁচিয়ার চাহিদা আছে। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পাহাড়ি যারা, তাদের কাছেও এটা খুব প্রিয় খাদ্য। কুঁচিয়া উত্পাদনে অনেকটাই এগিয়ে গেছি এবং বিদেশে রপ্তানি করতে পারছি। সব মিলিয়ে এ খাতে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।
আপনি কি মনে করছেন খাদ্য হিসেবে জনপ্রতি যেটুকু মাছ প্রয়োজন, তা আমরা উত্পাদন করতে পারছি?
মো. আশরাফ আলী খান খসরু : একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬০ গ্রাম মাছ প্রয়োজন। আমরা এখন গড়ে প্রতিদিন উত্পাদন করছি সাড়ে ৬২ গ্রাম। ফলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে মাছ বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। চিংড়ি, কুঁচিয়া, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন মাত্স্যসম্পদ আছে এই রপ্তানির তালিকায়। মত্স্য খাতের উন্নয়নে অনেক নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সাসটেইনেবল মেরিন কোস্টাল এরিয়া, অনেক বড়ো প্রজেক্ট। এটাতে আমরা যদি সাকসেসফুল হতে পারি তাহলে কাঁকড়া, কুঁচিয়া বা এরকম অনেক প্রকল্প এগিয়ে নিতে পারব। কোস্টাল বেল্টে জেলেদের যখন কাজ থাকে না, তখন যেন অসুবিধায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে তাদের মুরগি, হাঁস, ভেড়া দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট খামার করার জন্য। ছাগলও দেওয়া হবে। কারণ, যে সময়টায় মাছ ধরা বন্ধ থাকে, সে সময়টায় তারা যেন খামারের আয় দিয়ে চলতে পারে, সে জন্য নানা রকম গবেষণাও চলছে।
জলাভূমি তো আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে। এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বা আরো বেশি উত্পাদনের টার্গেট কীভাবে পূরণ হবে?
মো. আশরাফ আলী খান খসরু : মত্স্যসম্পদের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যার সুফল হলো মত্স্যসম্পদে আমাদের এগিয়ে যাওয়া। যে খালগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো খনন করা হচ্ছে। সারা দেশে যারা নদী দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ২৩ ডিসেম্বর থেকে অভিযান চালানোর কথা রয়েছে, আমাদের নদীগুলোর দখল হয়ে যাওয়া অংশ উদ্ধার করার লক্ষ্যে। যেখানে নদীগুলো অগভীর হয়ে গেছে, সেখানে ড্রেজিং চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। এগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারলে মত্স্য খাত অনেক দূর এগিয়ে যাব। সরকারি হ্যাচারির পাশাপাশি বেসরকারি হ্যাচারিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পোনা উত্পাদন করা হচ্ছে। কম মূল্যে আমরা যা মানুষকে দিতে পারছি। এটা লাভজনক হওয়াতে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘আমি প্রত্যেক ঘরে ঘরে কাজ দেব।’ তবে এর মানে এই নয় যে ‘সবাইকে চাকরি দেব’। প্রাইভেট সেক্টরে এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তা করা হবে। সারা পৃথিবীতেই সরকারি চাকরির সংখ্যা কম। আমরা যুব উন্নয়নের লক্ষ্যে মত্স্য চাষের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এতে ছোট ছোট মত্স্য খামার গড়ে উঠছে। সরকারি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মজা পুকুরগুলো খনন করা হচ্ছে। সরকারি টাকায় এ খনন কাজ চলছে। এগুলো জেলেসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির কাছে লিজ দেওয়া হচ্ছে। তারা মাছ চাষ করছে। কোস্টাল এরিয়ায় প্রচুর চিংড়ি ঘের রয়েছে। এগুলোকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করা হচ্ছে। সরকার ঋণসহ বিভিন্ন রকম ইনসেনসিভ দিচ্ছে। এসব চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশে চিংড়ির অনেক চাহিদা রয়েছে। আছে সামুদ্রিক মাছেরও অনেক চাহিদা ।
যেসব জাল দিয়ে রেণু ও পোনা মেরে ফেলা হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এসবের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলেই মত্স্য খাতে আমরা এতদূর এগোতে পেরেছি।
ব্লু-ইকোনমি মত্স্যখাতের বিরাট এক জায়গা, সমুদ্রমত্স্য বা সেখানকার প্রাণিজ সম্পদ নিয়ে কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন?
মো. আশরাফ আলী খান খসরু : সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে আমরা এখনো ডিপ ওয়াটারে যেতে পারিনি। আন্তর্জাতিক আদালতের সমুদ্র জয়ের পর সবমিলিয়ে আমরা ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার টেরিটোরিয়াল সমুদ্রের বিশাল জায়গার অধিকারী। আমরা এখন মিড ওয়াটারে আমরা মাছ ধরতে পারছি। তবে ডিপ ওয়াটারে এখনো পারছি না। আমরা কিছু লাইসেন্স দিয়েছি, জাহাজে মাছ ধরার জন্য। এর মাধ্যমে টোনা ফিশ আহরণ করব; যেগুলো খুব দামি মাছ, যাকে আমাদের এখানে কোরাল মাছ বলে। এগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে খুব চাহিদা আছে।
যারা সমুদ্রে মাছ ধরতে যাচ্ছে, তারা যেন একই জায়গায় মাছ ধরে সমুদ্রে মাছের ব্যালেন্স নষ্ট না করে, এ ব্যাপারেও আমাদের চিন্তা আছে। এ জন্য মাছ ধরার ট্রলার ও জাহাজগুলোকে আমরা রাডার/ট্রেকার দিচ্ছি। এতে যে জায়গাগুলোয় মাছ ধরা নিষিদ্ধ, সেখানে গেলে আমরা ট্রেকিং করতে পারব। এ ব্যাপারে আমরা ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার কল করছি। এগুলো আমরা ট্রলার ও জাহাজগুলোতে সেট করব। তাহলে আমরা বুঝতে পারব, তারা কোথায় মাছ ধরছে। মাছ ধরার ট্রলার ও জাহাজগুলোর ক্যাটাগরি আছে। কে ৪০ মিটারের মধ্যে, কে ১০০ মিটার গভীরে মাছ ধরবে, তা ভাগ করা আছে। যার যে পর্যন্ত মাছ ধরার কথা, এর বাইরে যেন না ধরতে পারে, সে জন্যই এসব কার্যকর পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। এতে কেউ যদি মাছ শিকারের সময় অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে, সেটাও ধরা পড়বে।
উত্পাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন কী পরিকল্পনা নিচ্ছেন?
মো. আশরাফ আলী খান খসরু : আগামী দিনের জন্যও আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমরা কিছুদিন আগেই চীন থেকে ব্রুদ ফিশ এনেছি। এগুলো আমরা বড়ো বড়ো মত্স্য খামারে দিয়েছি। এই মাছগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে পুরোপরি বড়ো হবে এবং রেণু দেবে। এসব রেণু ও পোনা আমরা কৃষকদের দেব। এর ফলে হবে কি, এখন যে মাছের আকারটা ছোট হয়ে গেছে, সেটা বড়ো হয়ে যাবে। কারণ ব্রুদ যদি বড়ো না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে মাছ তত বড়ো হয় না।
আগেও বলেছি, পুকুর, খাল, নালা, বিল এগুলো খনন করে গভীরতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো হয়ে গেলেই বড়ো অগ্রগতি হবে মত্স্য খাতে। আমরা জেলেদেরকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এনেছি। যারা বাকি আছে, তাদেরও রেজিস্ট্রেশন করা হবে। তাদের যখন প্রয়োজন হবে, আমরা সাহায্য করব। যেমন :সাগরে যারা মাছ ধরতে যায়, যদি তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে বা জলদস্যুর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত বা নিহত হয়, তাহলে তাদের পরিবারকে এককালীন সাহায্য দেওয়া হবে।
বলা রাখা ভালো, প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ ও চাষের মাছের পুষ্টিগুণ বা আমিষে কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্যের বিষয়টা মানুষ ধারণা থেকে বলে, যা অমূলক। এমনকি স্বাদেও তেমন পার্থক্য নেই। কোনো মাছের ব্যাপারে যদি কাউকে বলা হয় যে, এটা চাষের, এটা নদীর, এটা সাগরের; তখন সে স্বাদের পার্থক্য কল্পনা করে নেয়। অন্যথায় বোঝার উপায় নেই।
