মঞ্চটা প্রস্তুতই হয়েছিল, অপেক্ষা ছিল কেবল উদ্যাপনের। আর সেই উদ্যাপনে খুব বেশি সময় নিল না পাকিস্তান। শেষ দিনে বাকি থাকা তিন উইকেটে শ্রীলঙ্কা যোগ করতে পারল না কোনো রান। আনুষ্ঠানিকতা সারতে স্বাগতিকদের লাগল মোটে ১৬ বল।
ফলাফল, করাচিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ২৬৩ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ৪৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২১২ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। সবচেয়ে কম বয়সি পেসার হিসেবে টেস্টে পাঁচ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড গড়ে দলকে দারুণ এক জয় এনে দিলেন নাসিম শাহ।
প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া আবিদ আলি হন ম্যাচ ও সিরিজ সেরা। এর আগে ড্র হয় সিরিজের প্রথম টেস্ট।
এ সিরিজটি দিয়েই ১০ বছর পর পাকিস্তানে ফিরেছে টেস্ট ক্রিকেট। এই উপলক্ষ্যটাকে দারুণভাবে স্মরণীয় করে রাখল আজহার আলীর দল। একই সঙ্গে দ্বিতীয় মেয়াদে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই আজহারের প্রথম টেস্ট ও টেস্ট সিরিজ জয়। গর্বিত অধিনায়ক আজহার বলেন, ‘টেস্ট দল হিসেবে গেল বছরটা আমাদের জন্য ভালো করেনি। আমাদের একটা নতুন ও ইতিবাচক সূচনা দরকার ছিল। সেটা করতে পেরেছি। তাই অবশ্যই আমি সন্তুষ্ট।’
দেশে ক্রিকেট খেলতে পারাটাই পাকিস্তান দলের জন্য অনন্য এক সুযোগ ছিল, জানালেন আজহার। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলায় পারফরম্যান্সের পুরোটাই নির্ভর করে চাপ নিতে পারার ওপর। টিম ম্যানেজমেন্টের দেওয়া দায়িত্বটাকে সবাই পালন করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিল। যখন আপনি খুব চাপে থাকবেন, তখন আসলে নিজেদের শিকড়টা খুঁজে বের করা জরুরি। দেশে খেলা এক্ষেত্রে বড়ো একটা ব্যাপার ছিল। এটা খেলোয়াড়দের বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমরা জানি, দুবাইয়ে ম্যাচ জেতাটা কতটা কঠিন, যতই সেটাকে আমার হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করি না কেন।’
জয় নিশ্চিত করার পর এই অধিনায়ক অবশ্য ধন্যবাদ দিলেন শ্রীলঙ্কা দলকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই পারফরম্যান্সটা দরকার ছিল। শ্রীলঙ্কা দলকে আমার অন্তর থেকে ধন্যবাদ। ওরা আসলে বুঝতেই পারছে না ওদের এখানে খেলতে আসায় যে আমরা লম্বা সময় পর দেশে টেস্ট খেলতে পেরেছি, তাতে কী দারুণ আনন্দ পেয়েছি। ম্যাচে যারা দায়িত্বে ছিলেন নানা ভূমিকায়, যারা আমাদের সবার নিরাপত্তা দেওয়ার কাজটা করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ১৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংস ১৩১ ওভারে ৫৫৫/৩ ইনিংস ঘোষণা
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ২৭১ ও
দ্বিতীয় ইনিংস: ৬২.৫ ওভারে ২১২ (করুণারত্নে ১৬, ফার্নান্দো ১০২, কুসল ০, ম্যাথিউস ১৯, চান্দিমাল ২, ধনাঞ্জয়া ০, ডিকভেলা ৬৫, দিলরুয়ান ৫, এম্বুলদেনিয়া ০, বিশ্ব ০, কুমারা ০*; শাহিন ১৪-৩-৫১-১, আব্বাস ১২-২-৩৩-১, নাসিম ১২.৫-৪-৩১-৫, ইয়াসির ২০-২৩-৮৪-২, হারিস ৪-০-১০-১)
ফলাফল : পাকিস্তান ২৬৩ রানে জয়ী
সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ১-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যাচসেরা: আবিদ আলি (পাকিস্তান)
সিরিজসেরা: আবিদ আলি (পাকিস্তান)
