নারী ফুটবলের উন্নয়নেও অবদান রাখতে চান জয়া

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২৮

বাংলাদেশের প্রথম ফিফা নারী রেফারি জয়া চাকমা জানিয়েছেন দেশের নারী ফুটবলের উন্নয়নেও অবদান রাখতে চান তিনি। জয়া চাকমা ২১ ডিসেম্বর ফিফার অনুমোদন পাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার নারী রেফারিদের ছোট্ট তালিকাটায়ও ঢুকে পড়েছেন। গতকাল দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি খেলোয়াড় থেকে রেফারি হয়ে ওঠা, সামাজিক বাধা পেরোনোর পাশাপাশি জানান ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাটাও। ফিফা রেফারির ব্যাজটা ধরে রাখার পাশাপাশি দেশের নারী ফুটবলের উন্নয়নেও কীভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে সব নিয়ে কথা বলেন জয়া। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন নেয়ামত উল্লাহ—

দেশের প্রথম নারী রেফারি আপনি। ফিফার পক্ষ থেকে অনুমোদনের এ খবরটা পাওয়ার পর অনুভূতিটা কেমন ছিল?

কতটা আনন্দিত এ ব্যাপারটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। দশ বছর ধরে এই রেফারিংয়ের পেছনে লেগে আছি। এ সময়ে ফিটনেস, টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। তারই ফল পেলাম।

এর আগে দুই বার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হননি। এ কারণেই কি আনন্দের মাত্রাটা বেশি?

গত দুই বছর ফিফায় পরীক্ষা দিয়েছিলাম। মূলত ফিটনেসই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এবার সে বাধাটা জয় করতে পেরেছি। এ অনুভূতিটা কেমন তা ঠিক বলে বুঝানো যাবে না।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে ফুটবলারদের অকালে ঝরে যাওয়া। সে বাধাটা কাটিয়ে এ পর্যায়ে আসতে কতটা মানসিক শক্তির প্রয়োজন ছিল?

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে খেলোয়াড় হয়ে টিকে থাকাটাই বেশ কঠিন। সেখানে আমাদের কাজ করার জায়গাটা কম, লিগ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে লক্ষ্যে অবিচল রাখার জন্যে মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকতে হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যর্থতার মুহূর্তগুলোয় নিজেকে ধরে রাখাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

এ পর্যায়ে আসার পথে পারিবারিক সাহায্যটা কেমন পেয়েছিলেন?

শুরুর দিকে এটা ছিল না। এখানে ক্যারিয়ার গড়ি এটায় পরিবারের কারোই সমর্থন ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে তারা সমর্থন দিতে শুরু করেন।

কী কারণে ফুটবল ছাড়ার পরে রেফারিংকে বেছে নিয়েছিলেন?

মূলত ফুটবলের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা থেকেই এখানে এসেছি। জাতীয় দল থেকে যখন বাদ পড়লাম তখন রাগের বশে ফুটবলই খেলব না এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু রাগটা কমার পরে বুঝতে পারলাম, আসলে ফুটবলটা ছাড়া থাকতে পারব না। আর তখন নারীদের কোচিংটা সম্ভব ছিল না, তাই রেফারিংয়ে আসা।

একটা সময়ে ঘরোয়া ফুটবলে বিজেএমসির হয়ে খেলেছেন। কিন্তু সিনিয়র লেভেলে এখন নারী ফুটবলে আর কোনো টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। এটা নারী ফুটবলে কেমন প্রভাব রাখতে পারে বলে মনে করেন?

জুনিয়র ফুটবলে বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট, ডিএফএ টুর্নামেন্টগুলো হলেও সিনিয়র লেভেলে মেয়েরা খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে দেখবেন ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও পিছিয়ে পড়ছি আমরা। কয়েকদিন আগে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে যারা খেলেছে তারা অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬ দলের। সিনিয়র পর্যায়ে খেলার সুযোগ তৈরি না হলে নতুন মেয়েরা ভবিষ্যতে আর আগ্রহ দেখাবে না।

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী ?

ফিফা রেফারিংয়ের ব্যাজটা ধরে রাখা আমার প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি ফুটবলের উন্নয়নেও কাজ করে যেতে চাই, বিশেষ করে নারী ফুটবলে। আমার মনে হয় ফুটবল থেকে আমার আর পাওয়ার কিছু নেই, দেওয়ার অনেক কিছু আছে। কারণ ফুটবল না খেললে আমি আজ এখানে আসতেই পারতাম না। মূলত, সে উপলব্ধি থেকেই নারী ফুটবলের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।