দেওয়াল লিখন ও পোস্টারিং :সচেতনতা কাম্য

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৩

তেজগাঁও রেলক্রসিং হইতে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০০ ফুট চওড়া সড়কটির নাম মেয়র মোহাম্মদ আনিসুল হক সড়ক। আগে এই সড়কে ছিল ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের স্ট্যান্ড। সেখান দিয়া চলাচল করা ছিল দুষ্কর। পরিবেশ ছিল নোংরা। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এই স্ট্যান্ড অপসারণ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসির) তত্কালীন মেয়র মোহাম্মদ আনিসুল হক। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে তাহার মৃত্যুর পর তাহার নামে এই সড়কের নামকরণ করা হয়। গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে সড়কটির দুই পার্শ্বের দেওয়ালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ডিএনসিসি। দেওয়ালে দেওয়ালে তুলির আঁচড়ে ফুটাইয়া তোলা হয় আবহমান বাংলার রূপ। ইহার সঙ্গে ভাষা আন্দোলন হইতে শুরু করিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, নগরজীবন, পরিবেশ ও উন্নয়নভাবনা, প্রাত্যহিক নাগরিক জীবনের বর্ণিল সব অনুষঙ্গ ও ভবিষ্যতের ঢাকার চিত্র। কিন্তু সেই বর্ণিল দেওয়ালচিত্র এখন আর খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট দেওয়াল এখন নির্বাচনী পোস্টারে ঢাকিয়া গিয়াছে। বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া এই পোস্টারগুলি লাগানো হইয়াছে।

শুধু মেয়র মোহাম্মদ আনিসুল হক সড়ক নহে, উপর্যুক্ত চিত্র দেশের অন্যত্রও পরিলক্ষিত হয়। বিদ্যালয়ে ভর্তি, কোচিংয়ে ভর্তি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, শুভেচ্ছা-অভিনন্দন, পণ্যের বিজ্ঞাপণসহ অনেক কিছুর পোস্টারই দেওয়ালে দেওয়ালে লাগাইতে দেখা যায়। অথচ আইনে ইহা নিষিদ্ধ। যাহারা শহরের নান্দনিকতা নষ্ট করিয়া এইসব পোস্টার সাঁটান, তাহারা যেমন আইনের তোয়াক্কা করেন না, তেমনি এই আইন প্রয়োগেও নিষ্ক্রিয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পোস্টার ও দেওয়াল লিখনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভবন মালিকরাও। ২০১২ সালের দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৩ নম্বর ধারায় স্পষ্ট করিয়া বলা হইয়াছে যে, নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে দেওয়াল লিখন বা পোস্টার লাগানো যাইবে না। ৬ নম্বর ধারায় বলা হইয়াছে, এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৫ হইতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাইবে। জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রযোজ্য হইবে। কোনো সুবিধাভোগীর অনুকূলে বিধান লঙ্ঘন করিয়া দেওয়াল লিখন বা পোস্টার লাগাইলে ঐ সুবিধাভোগীকে ১০ হাজার হইতে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে। জরিমানা অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যাইবে। অনেক ভবন মালিক সীমানা-দেওয়ালে চুনকাম করিতে করিতে ত্যক্তবিরক্ত হইয়া পড়িয়াছেন। রাত্রিবেলা পাহারা দিয়াও দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো বন্ধ করিতে পারিতেছেন না।

আইন অনুযায়ী যে কোনো উদ্দেশ্যে যে কোনো রঙের কালি বা চুন বা কেমিক্যাল দ্বারা দেওয়াল বা যানবাহনে কোনো লিখন, মুদ্রণ, ছাপচিত্র বা চিত্র অঙ্কন করাকে বলা হয় দেওয়াল লিখন। আর কাগজ, কাপড়, রেক্সিন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমসহ যে কোনো মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত প্রচারপত্র, প্রচারচিত্র, বিজ্ঞাপনচিত্র এবং যে কোনো ধরনের ব্যানার ও বিলবোর্ড পোস্টারের অন্তর্ভুক্ত। এই আইনের ৫ নম্বর ধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ খরচে দেওয়াল লিখন বা ক্ষেত্রমতে পোস্টার মুছিয়া ফেলা কিংবা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। সুতরাং এই আইন অনুযায়ী ডিএনসিসি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে বলিয়া আমরা আশা করি। নির্বাচনী পোস্টার সুতলি দিয়া টাঙানোরই নিয়ম। এই ব্যাপারে সকলের সচেতনতা একান্ত কাম্য।