মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় নেতা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সাবেক সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী গতকাল সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সকালে বনানী কবরস্থানে আব্দুর রাজ্জাকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আব্দুর রাজ্জাকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ছাত্রজীবনে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে মত ও পথের ভিন্নতা ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও উনসত্তরের গণ-আন্দোলনে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া ও মেনন গ্রুপ মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রম পরিষদ গঠন করেছিলাম। আমাদের সব দলের একের সঙ্গে অন্যের একটা সুসম্পর্ক ছিল, কিন্তু এখন সেটা নেই, হারিয়ে গেছে।’ ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জনিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সব ছাত্রনেতারই উচিত সংযত হয়ে কথা বলা।
বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবরস্থানে, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এদিকে বিকেলে আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন ও আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র মিলনায়তনে (টিএসসি অডিটোরিয়াম) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের সহচর, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোজাফফর হোসেন পল্টু, মুকুল বোস, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।
