কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কেমন সমাবর্তন চান সাবেক শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২৭

 

সবুজের বেষ্টনী আর লাল মাটির

পাহাড়িয়া আঁকাবাঁকা পথে আকাশচুম্বী দালান যেন একেকটা শিক্ষার্থীর স্বপ্নের প্রতিধ্বনি। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক কুমিল্লা নগরীর লালমাই পাহাড়ে গড়ে ওঠা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর প্রথমবারের মতো আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সমাবর্তন। সমাবর্তন নিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছেন— জয়নাল আবেদিন

 

প্রধান অনুষঙ্গগুলোতে কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন ঘটেনি

 

আভিযাত্রিক তথা গ্র্যাজুয়েটদের পরম আকাঙ্ক্ষিত আয়োজন ‘সমাবর্তন’। প্রথম ব্যাচের ছাত্র হওয়ায় এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সুবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা চড়াই-উত্রাইয়ের প্রত্যক্ষদর্শী আমি। যাত্রা শুরুর প্রায় ১৩ বছর পরে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সমাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার মাত্রাও তাই খানিকটা বেশি। এতটা সময় পরে এসে ‘প্রথম সমাবর্তন’ আয়োজনের সাহসী উদ্যোগের জন্য উপাচার্য মহোদয় ও বর্তমান প্রশাসন অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। সমাবর্তন বিষয়ে আমার প্রধানতম চাওয়া ছিল এর সামগ্রিক আয়োজনে যেন অধিকাংশ গ্র্যাজুয়েটের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে, সমাবর্তন বক্তা, ফি নির্ধারণসহ প্রধান অনুষঙ্গগুলোতে এর কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন ঘটেনি।

আহসান হাবীব

কর্মকর্তা, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ও

কুবিসাস প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক

 

সহপাঠীদের

কাছে পাওয়ার লোভ

সামলানো দায়

 

সমাবর্তন বক্তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার সময় হয়েছে মনে করি। তাছাড়া সনদপত্রে যেন কোনো ভুল না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসছেন, তাই সমাবর্তনের আগেই সব গ্র্যাজুয়েটকে রিহার্সাল করানো জরুরি। সমাবর্তনে যাব। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে দেখা হবে। পরে গুরু জেমসের কনসার্টে কুবির ১৪তম ব্যাচ অব্দি সবাইকে পাবে। একেকটা মেধার আগ্নেয়গিরি ও ভালোবাসার ভাইবোনদের কাছে পাওয়ার লোভ সামলানো দায়। পরিশেষে একটা প্রানবন্ত ও সফল সমাবর্তন চাই।

ড. মোহাম্মাদ মাহাদী হাসান

সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

 

সবাই মিলব

আনন্দের শেষ

সীমায়

 

সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়। হাজারো স্বপ্ন, পাওয়া ও না পাওয়ার কাঙ্ক্ষিত আনন্দঘন মুহূর্তের হাতছানি। ক্যাম্পাসের সুখ-স্মৃতির প্রস্ফুটিত মিলনমেলা। প্রশাসন, ব্যাংক, শিক্ষা বিভাগ, বিপণন বিভাগ, উন্নয়ন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখে            যাচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সুন্দর ও প্রাপ্তির ঘনঘটা সমাবর্তনে সম্মিলন হচ্ছে না, যা হাজারো কুবিয়ানের অনাকাঙ্ক্ষিত। সীমাবদ্ধতা আছে, থাকবে, তবে এর মাঝেও আরো পরিপক্ব হতে পারত সমাবর্তন। আরো আগে থেকেই পরিকল্পিত হলেও কোনো দোষের হতো না। তারপরেও আয়োজনমালায় আলোকিত হোক           কুবি ক্যাম্পাস। 

বাহাউদ্দীন বাহার

সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান উন্নয়নকর্মী

 

সীমাবদ্ধতার মধ্যে সমাবর্তন আয়োজন প্রশংসার

দাবিদার

 

অনেক আবেগ আর উত্কণ্ঠা শেষে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের লালায়িত স্বপ্ন। ভাবতেই ভালো লাগছে যে অল্প কয়েকটি দিন পরেই প্রাক্তনদের পদচারণায় মুখরিত হবে প্রিয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নির্দ্বিধায় প্রশংসার দাবিদার।  আশা করি, বর্তমান ভিসি প্রফেসর এমরান কবীর চৌধুরী স্যারের দূরদর্শিতা ও গতিশীল নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। সর্বোপরি সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সফল সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

আমজাদ হোসেন অর্ণব

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা