>> জাহিদ হাসান দিপু
বর্তমান যুগ বিজ্ঞান-প্রযুক্তির যুগ। সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে যেমন ইন্টারনেট বিস্তার লাভ করেছে পুরো বিশ্বে, তেমনি এই প্রজন্ম দিনে দিনে পাণ্ডিত্য লাভ করছে এর ব্যবহারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেড়েছে মানুষের অবাধ বিচরণ, যাদের অধিকাংশই তরুণ। এছাড়াও শিক্ষা, বিনোদন ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার ভিডিও নিয়ে সেই সারিতে জায়গা করে নিয়েছে ইউটিউব। এই প্লাটফর্মে ভিডিও কন্টেন্ট বানাচ্ছেন এবং দেখছেন প্রায় সব বয়সের মানুষ। আর ভিডিও বানিয়ে এই প্লাটফর্ম থেকে আয় করা মানুষের সংখ্যা কিংবা তাদের আয়ের পরিমাণও কিন্তু নিতান্তই কম নয়।
তেমনই একজন ইউটিউবার রায়ান কাজি। প্রকৃত নাম রায়ান গুয়ান। বয়স মাত্র ৮ বছর। সম্প্রতি ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ইউটিউবের সর্বোচ্চ আয়কারীদের তালিকায় বহু মহারথীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে রায়ান। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শিশুদের বিভিন্ন খেলনার আন-বক্সিং কিংবা মোড়ক উন্মোচন এবং সেগুলো রিভিউয়ের ভিডিও পোস্ট করেই ২০১৯ সালে আয় করেছে প্রায় ২২১ কোটি টাকা বা ২৬ মিলিয়ন ডলার। ‘ফোর্বস’-এর ২০১৮ সালে প্রকাশ করা শীর্ষ আয়কারী ইউটিউবারের তালিকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী এই খুদে ইউটিউবারের নাম ছিল। সে বছর তার আয় হয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। রায়ানের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘রায়ানস ওয়ার্ল্ড’। ২০১৫ সালে তার মা-বাবা এ চ্যানেল খোলেন। সে সময় রায়ানের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। তবে শুরুতে এ চ্যানেলের নাম ছিল ‘রায়ানস টয়েস রিভিউ’, যেখানে বিভিন্ন নতুন খেলনার বাক্স খোলা ও তা নিয়ে রায়ানের খেলার ভিডিও দেখানো হতো। পরে তা পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ২ কোটি ২৯ লাখেরও বেশি। ডেটা অ্যানালিটিকস ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্লেডের তথ্য থেকে জানা যায়, গত চার বছরে চ্যানেলটিতে যে ভিডিওগুলো পোস্ট করা হয়েছে, এর কয়েকটি ভিডিও ইতিমধ্যে ১০০ কোটিবার দেখেছে দর্শকরা। আর ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার চ্যানেলের মোট ভিউ সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ কোটি। বর্তমানে চ্যানেলটিতে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। খেলনার ভিডিও ছাড়াও সেখানে পোস্ট করা হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট।
তবে তার খেলনা রিভিউয়ের চ্যানেল নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি ইউএস ফেডারেল ট্রেড কমিশনে চ্যানেলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী ও গ্রাহক পরামর্শক সংস্থা ‘ট্রুথ ইন অ্যাডভার্টাইজিং’। এ সময় চ্যানেলটির নামও পরিবর্তন করা হয়। তাদের অভিযোগ, রায়ানের অভিভাবক শিয়ন ও কিউ লোয়ান গুয়ান পেইড কনটেন্টকেও অরগানিক বলে চালিয়ে দেন। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই তারা ভিডিওতে স্পন্সরড পণ্য দেখান এবং তা গোপন রাখেন। অর্থাত্ কোন ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে ভিডিওর জন্য অর্থ দেওয়া হয়, তা পরিষ্কার নয়।
