>> মাহবুব নাহিদ
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাবলম্বী করা, মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা এবং তরুণদের সুসংগঠিত করে তাদের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুমুক্ত আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে কাজ ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারি কয়েকজন উদ্যমী তরুণদের এক উদ্যোগ ‘বিবেক ফাউন্ডেশন’। তাদের মূল স্লোগান ‘উই সার্ভ হিউম্যানিটি’ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে ছিলেন এ. এম. মনোয়ার, সাদিয়া আফরিন মৌ ও এইচ এম ইমরান।
কথা হয়েছিল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনোয়ারের সঙ্গে। বর্তমানে তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০০, স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। তাদের অফিস মহাখালীতে। সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ানেই পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটি। সংগঠনটির রয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড ব্লাড ডোনেশন, ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস, ডিপার্টমেন্ট অব ইয়ুথ অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট। এই সকল ডিপার্টমেন্টের অধীনেই সংগঠিত হয় নানাবিধ স্বেচ্ছাসেবী কাজ।
বস্তি এলাকার শিশুদের অক্ষরজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রদানের লক্ষ্যে এরশাদ নগরস্থ বেদে বস্তিতে তাদের রয়েছে বিবেক স্কুল। শিশুদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলা হয়। ‘স্বপ্ন ওদের সত্যি হবেই’ নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে নিয়মিত তারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে থাকে। ইতিমধ্যে তারা প্রায় ১২০০ শিশুকে সহায়তা করেছে। তাদের নিজস্ব স্পন্সরে অনেক শিশুরাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। ‘বিবেক ফুড ব্যাংকিং’ নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার কড়াইল বস্তির বাচ্চাদের এনে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকে তারা। ‘বিবেক অনলাইন ব্লাডব্যাংক’ প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অনলাইনের মাধ্যমে রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করে দিচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য তাদের রয়েছে ‘ইয়ুথ লিডার মিট আপ’ নামক নেতৃত্ববিষয়ক কর্মশালা। যেখানে সফল মানুষদের নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করার একটা ব্যবস্থা করা হয়। কড়াইল বস্তিতে তারা সাহায্য কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি জরিপ করেছে। যেটা তাদের সাহায্য দেওয়ার লোক বাছাই করতে সাহায্য করে থাকে। সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস ডিপার্টমেন্ট বিভিন্নভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে থাকে। কিছুদিন আগে সড়ক নিয়ে যখন সচেতনতা বৃদ্ধিতে সারাদেশে কাজ হয়, তখন তারা প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে, যে ইভেন্টের নাম ছিল ‘অ্যাওয়ারনেস ফার্স্ট ফর রোড সেফটি’।
‘আলো-সাসটেইনেবল লাইভলিহুড প্রজেক্ট’ নামে তাদের দুস্থ ও অসহায়ের সাহায্য করার একটি কাজ রয়েছে। নো পোভার্টি, জিরো হাঙ্গার হচ্ছে এই প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য। তারা চায় স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট পরিবারগুলোর উন্নতি সাধন করতে। ইতিমধ্যেই তারা প্রায় পাঁচটি পরিবারকে সচ্ছল করতে সক্ষম হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ড ছাড়াও তাদের রয়েছে অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদের সময় ঈদবস্ত্র বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, গুণিজন সংবর্ধনা, স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিত্ব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংবর্ধনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক কার্যক্রম, ত্রাণবিতরণ কার্যক্রম, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ইফতারসহ নানাবিধ কার্যক্রম। দেশের সকল মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিতের অভিপ্রায় নিয়ে নিরাপদ খাদ্যঅধিকার প্রণয়নের দাবিতে আয়োজিত ‘যুব ছায়া সংগঠন’-এর সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বিবেক ফাউন্ডেশন। ঢাকা ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরে রয়েছে তাদের কার্যক্রম। তারা একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলবে, যেখানে পিছিয়ে পড়া মানুষেরা কাজ শিখবে এবং করতে পারবে। নারীরা কাজ শিখবে ও করে সাবলম্বী হবে, তাদের বাচ্চাদের পড়াশোনা করাবে, এমন স্বপ্ন দেখে তারা।
