শিশিরের ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৬

>>  সাইফুল ইসলাম

 

সময়ের সঙ্গে বাড়ছে এ দেশের মানুষের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার প্রবণতা। সকাল-সন্ধ্যা চাকরির চেয়ে ছোটখাটো হলেও ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে অধিকাংশই। সেই সঙ্গে চাকরির সোনার হরিণ হয়ে ওঠা তো আছেই। এসব কারণেই বর্তমানে দেশে গড়ে উঠছেন অনেক তরুণ উদ্যোক্তা। নিচ্ছেন ভিন্নধর্মী সব উদ্যোগ। তেমনি একজন তরুণ উদ্যোক্তা হুরাইরা শিশির। বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার জনপ্রিয় ডিজিটাল প্লাটফর্ম ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’-এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। একই সঙ্গে তিনি ডিজিটাল প্লাটফর্মে ম্যাট্রিমনিয়াল সম্পর্কিত প্রথম উদ্যোক্তাও।

শিশিরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। আদমজী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মাস্টার্স করেন ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০১৮ সাল থেকে পথচলা শুরু করে শিশিরের বাটারফ্লাই ম্যাটিমনিয়াল। নিজের অভিজ্ঞতা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই মহত্ পেশায় আসেন তিনি।

এই পেশার আসার কারণ জানতে চাইলে হুরাইরা শিশির বলেন, ‘বিয়ে মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটা মানুষের জীবনে বিয়ে খুব আবেগময় আর স্মৃতিময় একটা ঘটনা। এই দিনের অনুভূতি অন্যসব দিনের চেয়ে আলাদা। সুন্দরভাবে থাকার জন্য মানুষের বিয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা সবাই চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিই। সবাই মোটামোটি কমবেশি পড়াশোনা করি। কিন্তু বিয়ে নিয়ে কারোর কোনো প্রস্তুতি নেই। তবে বিয়ের আগে অবশ্যই মানসিক প্রস্তুতি রাখা উচিত। আমি একটি পরিবারে যাব বা অন্য একটি মানুষ আমার পরিবারে আসবে। তার সঙ্গে নিজেকে কেমন করে মিলিয়ে নিব সেগুলো আগে থেকেই চিন্তা করা উচিত। একটা মানুষকে কীভাবে আমার জীবনে স্বাগত জানাব, তা আগেই ঠিক করে রাখা ভালো। সমাজে বিভিন্ন পেশার, নানা মতের, নানা রকমের মানুষ আছে। যাদের পছন্দ নানা রকমের হয়ে থাকে। আর আমরা তাদের পছন্দমতো বিয়ে দিয়ে থাকি।’

বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল নামকরণের কারণও জানালেন শিশির, ‘বাটারফ্লাই নামটি আমার নিজেরই দেওয়া। গ্রামে একটা কথা প্রচলিত আছে, গায়ে যদি প্রজাপতি বসে, তাহলে বিয়ে হয়। আর প্রজাপতি দেখতে খুবই সুন্দর। আর তার রয়েছে অনেক রং। এক কথায় বর্ণময়। আমরা দেখি, যদি কোনো মিসম্যাচিং বিয়ে হয়, তাহলে ছেলে-মেয়ে সারাটা জীবনের জন্য ভোগান্তিতে পড়ে। যাতে এরকম না হয়, সে চিন্তা থেকেই এই নাম দেওয়া।’ নিজের জমানো টাকা দিয়ে বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল তৈরি করেন শিশির। এই উদ্যোগের জন্য ছেড়েছেন দেশের নামকরা একটি টেলিকমিউনিকেশনের বড়ো পোস্টের চাকরি। কাজ করতে গেলে কেমন বাধার সম্মুখীন হতে হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। আর সেই বাধাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। আর মেয়েদের কাজ করতে গেলে সমস্যা একটু বেশিই হয়। আর্থিক সমস্যা ও একটা বড়ো সমস্যা। আমাদের কাজটি ডিজিটালভাবে নতুন হওয়ায়, নিজে নিজে করতে হয়েছে সবকিছু। যার জন্য সময়টাও বেশি লেগেছে।’

যারা এই পেশায় আসতে চান, তাদের উদ্দেশে শিশির বলেন, ‘এটি অন্য যেকোনো পেশা থেকে একেবারেই আলাদা। এখানে আসতে হলে ব্যবসায়িক চিন্তা বাদ দিতে হবে এবং মনে করতে হবে, আমি মানুষের উপকার করব। মানুষের জীবন নিয়ে তো আর ব্যবসা হয় না। আর অবশ্যই তার বিয়ের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তারপর মানুষকে বোঝার ক্ষমতা, বোঝানোর ক্ষমতা থাকতে হবে। আর অবশ্যই যোগাযোগে ভালো হতে হবে।’