স্পোর্টস রিপোর্টার
মেহেদী হাসান, খুলনার ক্রিকেটার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেকে অনেক রূপে মেলে ধরেছেন এই তরুণ। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত তিনি। বরিশাল বুলসের হয়ে ২০১৬ সালের বিপিএলে নজর কাড়তে পারেননি। ২০১৭ সালে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অধীনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে যোগ দিয়েই নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হন মেহেদী। অফস্পিনার হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে এসে স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও ঝড় তুলছেন মেহেদী।
ঢাকা প্লাটুনের কোচ সালাউদ্দিনের আস্থা পেয়ে ব্যাটিংয়ে ঝলক দেখাচ্ছেন তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এই তরুণ। শেষ দুই ম্যাচে তার ঝড়ো ব্যাটিংই জয় এনে দিয়েছে ঢাকা প্লাটুনকে। কুমিল্লার বিপক্ষে তিন নম্বরে নেমে ২৯ বলে ৫৯ রান (২ চার, ৭ ছয়) করেছেন তিনি। গতকাল সিলেট থান্ডারের বিপক্ষেও চট্টগ্রামের দর্শকরা দেখল মেহেদীর ব্যাটের অগ্নিমূর্তি। তিনে নেমে ২৮ বলে ৫৬ রান (৫ চার, ৩ ছয়) করেছেন মেহেদী।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল মেহেদী, তামিম ইকবালের হাফ সেঞ্চুরি সিলেট থান্ডারকে ৮ উইকেটের বড়ো ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা প্লাটুন। ছয় ম্যাচে ঢাকার এটি চতুর্থ জয়। সমান সংখ্যক ম্যাচে সিলেটের এটি পঞ্চম হার। টস জিতে আগে ব্যাট করে সিলেট ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তুলেছিল। জবাবে ১৮.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৫ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ঢাকা। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হন মেহেদী।
সাগরিকায় প্রথম বলেই মেহেদীর শিকার হন সিলেটের ওপেনার ফ্লেচার (০)। সপ্তম ওভারে আব্দুল মজিদ (৮) ফিরলেও অপর প্রান্তে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন জনসন চার্লস। শুরুতে এই ক্যারিবিয়ান একাই টেনেছেন সিলেটকে। ৩২ বলে করে হাফ সেঞ্চুরি। ১১তম ওভারে দলীয় ৯৩ রানে যখন চার্লস আউট হন, তখন তার ঝুলিতেই ছিল ৭৩ রান। তিনটি চার ও আটটি ছক্কা হাঁকান তিনি। সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক মোসাদ্দেকও (২)। তারপর মিঠুন-রাদারফোর্ড ৬৫ রানের জুটি গড়েন। মিঠুন ৩১ বলে অপরাজিত ৪৯, রাদারফোর্ড ২৮ বলে অপরাজিত ৩৮ রান করেন। ঢাকার শহীদ আফ্রিদি ২টি, মেহেদী-শাদাব খান ১টি করে উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে তামিম-বিজয়ের ৫৮ রানের জুটিতে ভালো শুরু পায় ঢাকা। ২৩ বলে ৩২ রান করে মোসাদ্দেকের শিকার হন বিজয়। তিনে এসে মেহেদীর ঝড়ো ব্যাটিংই এগিয়ে দেয় ঢাকাকে। ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই তরুণ। তার আগে তামিম ৩৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৮৭ রানের জুটি। এবাদতের বলে বোল্ড হওয়া মেহেদী ৫৬ রান করেন। পরে তামিম-জাকের আলী অবিচ্ছিন্ন ৩০ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। তামিম ৪৯ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। জাকের আলী ১১ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন। সিলেটের এবাদত, মোসাদ্দেক ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট থান্ডার : ২০ ওভারে ১৭৪/৪
ঢাকা প্লাটুন : ১৮.৩ ওভারে ১৭৫/২
ফলাফল : ঢাকা প্লাটুন ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান (ঢাকা)
