রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রকে উত্তর প্রদেশের মিরাটে ঢুকতে দেওয়া হলো না। গত সপ্তাহে ভারতের নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছি?ল তাদের। মিরাটে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়ে মারা গিয়েছেন ছয় জন। জানা যাচ্ছে, পুলিশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানিয়ে দেয়, মিরাটে জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ার কারণেই সেখানে যেতে পারবেন না তারা। তাদের বলা হয়, এ সফর বাতিল করতে।
গাড়িতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র মিরাট যাত্রা করেন মঙ্গলবার সকালে। কিন্তু পুলিশ জানিয়ে দেয়, তারা মিরাটে ঢুকতে পারবেন না। এরপর তাদের কনভয় ফিরে আসে দিল্লিতে। লাল সোয়েটার ও জিনস পরিহিত রাহুল গান্ধী জানান, ‘আমরা পুলিশের কাছ থেকে জানতে চাই, তাদের কাছে কোনো অর্ডার আছে কিনা। তারা কোনো অর্ডার আমাদের দেখাতে পারেনি। কিন্তু তারা এটা জানিয়ে দেয়, আমাদের ফিরে যেতে হবে।’ এরপর রাহুলরা প্রস্তাব দেন, তারা তাদের সফর বাতিল করছেন। কেবল তিন জনের একটি দল সেখানে যেতে চায়। পুলিশ তাদের সেই অনুরোধ রাখেনি।
শনিবার প্রিয়াংকা গান্ধী বিজনৌর গিয়েছিলেন। সেখানে দুই জন ব্যক্তির মৃত্যু হয় নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে। সেখানে যেতে অবশ্য বাধা পাননি কংগ্রেস নেত্রী। ঐ দুই মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। গত শুক্রবার মিরাটে প্রতিবাদীরা গাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে পাথর ছুঁড়ে মারে পুলিশের দিকে। পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে থাকে। হিংসার পর ঐ অঞ্চলের ইন্টারনেট পরিষেবা করে দেওয়া হয়।
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করায় ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশে। নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, পার্সি ও জৈন শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সমালোচকদের আশঙ্কা এই আইন ও এনআরসির যৌথ প্রয়োগে উপযুক্ত নথি না থাকা মুসলিমদের এ দেশ থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করে হতে পারে। পাশাপাশি তাদের দাবি, এ আইন মুসলিমদের জন্য বৈষম্যমূলক ও সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির বিরোধী।
