যশোরের চৌগাছায় বাবা মহিরউদ্দিন (৬৫) ও মা আয়না বেগমকে (৫৫) জবাই করে হত্যা করেছে তাদের ছেলে মিলন হোসেন (২৫)। মহিরউদ্দিন উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত তোয়াক্কেল হোসেনের পুত্র। এঘটনায় স্থানীয়রা মিলনকে ধাওয়া করে বর্ণী গ্রাম থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। চৌগাছা থানার এসআই বিপ্লব ও এসআই বিকাশ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দুপুর একটার দিকে হত্যাকারী মিলনকে জনতা আটক করে পুলিশে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহতদের বাড়ি গ্রামের অন্য বাড়িগুলো থেকে একটু দুরে এবং ফাঁকা জায়গায় অবস্থিত। বুধবার বেলা ১২ টার দিকে বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িতে গিয়ে মহিরউদ্দিন ও আয়না বেগমকে বাড়ির উঠানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। একই সময়ে তাদের বড় ছেলে মিলনকে পালিয়ে যেতে দেখে। পরে দুপুর একটার দিকে গ্রাম থেকে তিন/চার কিলোমিটার দুরে বর্ণী গ্রামের মাঠ থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ‘আল্লাহর দল’র ১ সদস্য গ্রেফতার
স্থানীয় ইউপি সদস্য তারিক হাসান বাবুল বলেন, মোবাইলে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি দুজনের ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘাতক মিলনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য তারিক হাসানসহ এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন মিলন আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিল।
প্রতিবেশীরা জানান, মিলন স্বাভাবিক চলা ফেরার সময় সাথে ধারাল দা নিয়ে বেড়াত। সে কয়েক বছর পূর্বে পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছিল । সে প্রায়ই তার বাবা-মাকে মারধর করতো। এসব নিয়ে তাদের বাড়িতে ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকত।
বাড়ি থেকে সামান্য দুরের বাসিন্দা জামেলা বেগম জানান, ঘটনার দিন সকালেও তাদের বাড়িতে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিলো। তার কিছু সসময় পরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
মহির উদ্দীনের ভাই আজিজুর রহমান ও চাচা ইরাদ আলী জানান, এই ছেলের কারণেই পরিবারের অন্য কারোর সাথে সম্পর্ক নেই। এ কারণেই নিকট স্বজনদের থেকে দুরে মাঠের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় বসবাস করছিল।
মহির উদ্দীনের ভাতিজা একরামুল বলেন, মিলনের ছোটভাই হুমায়ন বোনের বাড়ি ছিল। এ সুযোগে সে এভাবে বাবা-মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তোতা মিয়া বলেন, ছেলেটিকে আমার পরিচিত। শুনেছি ছেলেটি নেশা করে। সব সময় রিজার্ভ মুডে থাকত। সে এর আগে একই গ্রামের খাইরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। হত্যা চেষ্টার মামলার আসামি হয়ে জেলও খেটেছে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ওসি রিফাত খান রাজিব আরও জানান, আমি নিশ্চিত সে বিড়ি-সিগারেট ছাড়া অন্য কোনো নেশা করেনা।
ইত্তেফাক/এএএম
