জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানেই দেশের সর্বত্র একটা উত্সবমুখর পরিবেশ। আনন্দঘন এই পরিবেশের ভাবমূর্তি বহাল রাখার উদ্দেশে সবার জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিগত জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে ক্ষমতাশীল দল ও বিপক্ষদলের মধ্যে রেষারেষির জের ধরে নির্বাচনকালীন অরাজকতা কিংবা সহিংসতার ঘটনা ঘটে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এমনকি জীবননাশের নজিরও রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী নিরাপত্তা রক্ষায় বাস্তবায়নের দাবি রাখে। যথাযথ পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি একান্ত কাম্য। নির্বাচন সময়কালীন অত্যাবশ্যকীয় নিয়মকানুন পালনে তদারকি প্রয়োজন। জনজীবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে কোনো দল গণতন্ত্র স্থাপন করতে পারে না। নির্বাচন শুধু দল জেতানোর উদ্দেশে নয়, জনগণের ভোটে প্রতিনিধিত্ব করানোর জন্যও হয়ে থাকে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের ঘরের-বাইরে বেরোনো যদি কঠিন হয়ে যায় তাতে আপনার বা আপনার সমর্থিত দলের আগামী দিনের শান্তি রক্ষার প্রতিশ্রুতি কতটুকু প্রমাণ পাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সমর্থিত কিংবা বিরোধী দল, বিশৃঙ্খলা যে তৈরি করুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী যে বা যারা হোক, দল কিংবা মার্কা যত শক্তিশালী হোক তা জনগণের রোষানলের কাছে পরাস্ত হতে বাধ্য।
তাই নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সর্বত্র স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন ঠিকই অনুষ্ঠিত হবে তবে সাধারণ মানুষের মনে ঘৃণা, ভয় কিংবা অস্থিরতা তৈরি করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা কখনোই সম্ভব নয়।
নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশে মাইকের ব্যবহার অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি পন্থা যেক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হলেও সেগুলো যথাযথ পালন করা হচ্ছে না। সমর্থিত দলের ক্যাম্পগুলোকে ঘিরে বখাটেদের আড্ডায় রাস্তায় স্বস্তিতে হাঁটার উপায় থাকে না। এছাড়া নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে অরাজকতা এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বিষয়ক যে সকল পরিকল্পনা করা হয়েছে তার সঙ্গে উপরোক্ত সমস্যাগুলো বিবেচনায় এনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। নিরাপত্তা শুধু নির্বাচনের দিন নয় বরং পূর্বে থেকে জোরদার করে সাধারণ মানুষের ভীতি দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। দল নিজ কিংবা বিরোধী হোক না কেন, নিরাপত্তা চাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য।
n লেখক :শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
