২৮ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
১৭ বছর পার হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, অস্ত্র, গুলি লুট ও চার পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়নি। ১০ বছর আগে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হলেও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়নি। ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত। মূলত এই আদালতে প্রায় এক বছর ধরে বিচারক না থাকায় থমকে গেছে মামলার বিচার কার্যক্রম। তবে সাক্ষ্য গ্রহণ ত্বরান্বিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
আসামিদের মধ্যে মুকুল হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও জয়নাল আবদীনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৩ জন জামিনে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ১০ জন। মামলাটি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। আগামী ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ক্যাম্প লুটের এই মামলা ২০০২ সালের মামলা। মামলা হওয়ার পর চার্জশিট দেয় ২০০৮ সালে। সাক্ষী হয়েছে ১৯ জনের। প্রায়ই সাক্ষীই আসামির নাম বলতে পারেনি এবং ঘটনা দেখেনি। এই মামলার এজাহারে কোনো আসামির নাম ছিল না। চার্জশিটে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরই মধ্যে তিন জন আসামীর মৃত্যু হয়েছে। এই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াজ করনী লকেট বলেন, মামলাটি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। সাক্ষীদের সমন জারি করা হচ্ছে। সাক্ষীরা বিভিন্ন জেলায় চলে যাওয়ায় এবং বিচারক বদলিজনিত কারণে আদালতে না থাকায় মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিলম্বিত হচ্ছে। এক বছর হলো এই আদালতে কোনো বিচারক নেই যার কারণে চাঞ্চল্যকর এই মামলার পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২০০২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রান্ধুনীবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আসরের নামাজ পড়তে যাবে। ঠিক সেই মুহূর্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের সদস্যরা ক্যাম্পে হামলা চালায়। তারা চার পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যার পর অস্ত্র ও গুলি লুট করে নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন হলেও এ মামলার এখনো রায় হয়নি।
