স্পোর্টস রিপোর্টার
দাসুন শানাকার ব্যাটিং ঝড়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরু করেছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। তিন ম্যাচের দুটিতেই জিতেছিল দলটি। শানাকার পর ভানুকা রাজাপাকশে, ডেউইড মালানরা বড়ো ইনিংস খেলেছেন। মুজিব উর রহমান বল হাতে জ্বলে উঠেছেন। কিন্তু দেশীয় ক্রিকেটারদের নিষ্প্রভতায় কুমিল্লার বিপিএল মিশন তিমিরে হারাচ্ছে। সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানরা ব্যাটিংয়ে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। বড়ো ইনিংস খেলতে পারছেন না কেউই। এমনকি বিদেশিদের যথাযথ সঙ্গ দিতেও ব্যর্থ তারা।
তাই চট্টগ্রাম পর্ব শেষে কুমিল্লার প্লে-অফ খেলার মিশন বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে। কারণ, চট্টগ্রামে চার ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরেছে দলটি। ছয় ম্যাচে কুমিল্লার জয় এখন দুটি, হার চারটি। প্লে-অফ খেলতে হলে আরও অন্তত চার-পাঁচটি ম্যাচ জিততে হবে দলটিকে। সেটা কঠিন কর্মই বটে।
কুমিল্লার কাজটা আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে এখন। কারণ চট্টগ্রাম পর্ব শেষেই দল ছেড়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক শানাকা ও ওপেনার রাজাপাকশে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) ডেকে পাঠিয়েছে তাদেরকে। ভারত সফরের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন তারা। গতকালই কলম্বো চলে গেছেন তারা। দুই লঙ্কানের বদলি ঠিক করেছে কুমিল্লা। বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলোতে লঙ্কান অভিজ্ঞ ওপেনার উপুল থারাঙ্গা, দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার ডেভিড উইজ খেলবেন কুমিল্লার হয়ে।
তবে শানাকা চলে যাওয়ায় নতুন অধিনয়াক খুঁজতে হচ্ছে বিসিবির অধীনে পরিচালিত দলটিকে। সৌম্য-সাব্বিররা থাকলেও কুমিল্লার অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে রয়েছেন মালান। ইংলিশ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান এখন বিপিএলের চলতি আসরের সেরা রান সংগ্রাহক। ৬ ম্যাচে ৩০০ রান করেছেন মালান। গত মঙ্গলবার রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। চলতি আসরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান তিনি।
শানাকা যাওয়ার পর টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে কুমিল্লার অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে আপত্তি নেই মালানের। মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এই ইংলিশ ক্রিকেটার বলেছেন, ‘ম্যানেজার, কোচকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার কোনো ধারণা নেই। যদি তারা আমাকে অধিনায়কত্ব করতে বলে আমি অবশ্যই করব। এটা কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর নির্ভর করছে।’ ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫ টেস্ট, এক ওয়ানডে ও নয় টি-২০ খেলেছেন মালান। টি-২০ ফরম্যাটে সারা পৃথিবীতেই খেলে বেড়ান বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ক্রিকেটের ক্ষুদে ফরম্যাটে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতেই পঞ্চম সেঞ্চুরিটি করেন তিনি।
ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে মালানের সেঞ্চুরির পরও কুমিল্লা ৮ উইকেটে ১৭০ রানের বেশি স্কোর গড়তে পারেননি। সাগরিকার রান সহায়ক উইকেটে ১৭.৫ ওভারেই সেই স্কোর টপকে গেছে রাজশাহী। সেঞ্চুরি করেও তাই পরাজিত দলের প্রতিনিধি মালান। ৫৪ বলে অপরাজিত ১০০ রান (নয়টি ৪, পাঁচটি ৬) করেছিলেন তিনি। আফিফ হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে ম্যাচ সেরা হন মালান।
ম্যাচের পর হতাশা ব্যক্ত করেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ইংলিশ ক্রিকেটার। সেঞ্চুরির পরও দল না জেতায় হতাশ মালান। সংবাদ সম্মেলনে মালান বলেছেন, ‘রান করা, সেঞ্চুরি করা সবসময় দারুণ বিষয়। এটা হতাশার যে যখন আপনি সেঞ্চুরি করবেন, কিন্তু ম্যাচটা জিতবেন না। তবে এটুকু অনুভূতি হবে যে আপনি দলকে জয়ের অবস্থানে নেওয়ার জন্য অবদান রেখেছেন। সেদিক থেকে হতাশার ছিল। আমরা হেরেছিলাম, কিন্তু খুব দূরে ছিলাম না। হয়তো ১৫ রান বেশি বা একটা ভালো ওভার আমাদেরকে জেতাতে পারত। প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের খুব কাছে গিয়েছি আমরা। দল হিসেবে আমাদের আরো অনেক কিছু করার আছে, খেলার আছে।’
