ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের সেমিনারে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনতে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একত্রিকরণের (মার্জ) তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দেশে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাংক অনুমোদন পাওয়ায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে যিনি ব্যাংক উদ্যোক্তা, তার অন্য ব্যবসাও রয়েছে। ফলে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যাংক মালিকদের যোগসাজশে এ খাতে অনিয়ম করা সহজ হয়েছে। ব্যাংকগুলোর একত্রিতকরণের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। রবিবার রাজধানীর ইস্কাটনে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সে এক সেমিনারে বক্তারা এ মতামত তুলে ধরেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যাংকিং খাত বিশেষজ্ঞ ও কলকাতাভিত্তিক অ্যাকাশিয়া গ্লোবাল কনসালটিংয়ের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক অরূপ চৌধুরী বলেন, ভারতে অন্য কোনো শিল্পের মালিক ব্যাংকের লাইসেন্স পান না। টাটা কিংবা রিলায়েন্সের মতো বড়ো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ব্যবসা নেই। ভারতের মতো এত বিশাল দেশে কিছু দিন আগে পর্যন্ত ব্যাংকের সংখ্যা ছিল ৩৮টি। একত্রিতকরণের ফলে এই সংখ্যা বর্তমানে ২৭ এ নেমে এসেছে। অবশ্য বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে না পারলেও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ও ক্ষুদ্র অর্থনীতি কল্যাণে অর্থনীতির সূচক ভালো করেছে বলে মত দেন তিনি। তবে উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা বাড়লে ভেঞ্চার ক্যাপিটালও বেশি আসবে। এ সময় তিনি ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সে চালু হওয়া উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতের কোর্স নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব, বিজনেস প্লান ও উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক তৈরিতে গুরুত্ব দেন।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিশেষত এ খাতে ডেব্ট ও ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করা দরকার। অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির স্বার্থে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ করাও প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯টি। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ৩০টি। সেমিনারে অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা দেশে উদ্যোক্তা উন্নয়নে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
