ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আকারভিত্তিক তিনটি বৃহত্, মধ্যম ও স্বল্প মূলধনী কোম্পানির সমন্বয়ে নতুন সূচক চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগকারী, শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে চীনের কনসোর্টিয়ামের ব্যাবসায়িক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে এটি চালু করা হবে। শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি শেনঝেন সিকিউরিটিজ ইনফরমেশন কোম্পানি লি. ও ডিএসই যৌথভাবে এ সূচকটির ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজ করেছে। ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, বিনিয়োগকারীরা যাতে বৃহত্, মধ্যম ও স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর মূল্যের হ্রাস বৃদ্ধি এক নজরে বুঝতে পারেন সেজন্য এ সূচক চালু করা হবে।
এছাড়াও এর ফলে ডিএসইর সূচকের বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আরো বেশি আগ্রহী হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বৃহত্ বাজার মূলধনের কোম্পানিগুলোকে নিয়ে সিএসআই-ডিএসই সিলেক্ট ইনডেক্স (সিডিএসইটি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
ডিএসইর শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে সূচকটি উদ্বোধন করবেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম। এছাড়াও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মনোনীত পরিচালক শিয়ে ওয়েনহাই এবং শেনঝেন সিকিউরিটিজ ইনফরমেশন কোম্পানি লি. জেনারেল ভাইস ম্যানেজার শিং জিং পিং উপস্থিত থাকবেন।
১ জানুয়ারি তারিখ থেকে সূচকটি অফিসিয়ালি ডিএসইর ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ সূচকটিতে কোম্পানি অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাজার মূলধন (শীর্ষ স্থানীয়), মৌলভিত্তি (মুনাফা) ও তারল্য (লেনদেন, ট্রেডিং ডে) ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সূচকটিতে বর্তমানে ৪০টি কোম্পানি রয়েছে। সূচকটির ভিত্তি তারিখ ধরা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ এবং ভিত্তি ভ্যালু হচ্ছে ১০০০ পয়েন্ট। সূচকটি অর্ধ বার্ষিকী অর্থাত্ প্রতি ছয় মাসে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
ডিএসইর সূচক বাড়ল ২৮ পয়েন্ট
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের সঙ্গে লেনদেন বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৫২টি কোম্পানির ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৩০৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২৮ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪৪১৮.৮৪ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ১২ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৫০৮ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৯ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ৯৯৪ দশমিক ৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৪টির, কমেছে ৯২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬টি কোম্পানির শেয়ার।
টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো ডেফোডিল কম্পিউটার, নরদার্ন ইন্সু., ইউনাইটেড পাওয়ার, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সু., খুলনা পাওয়ার, সিনোবাংলা ইন্ডা., রিং শাইন, ব্যাংক এশিয়া, প্যারামাউন্ট ইন্সু. ও স্কয়ার ফার্মা।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—জাহিন স্পিনিং, দেশ গার্মেন্ট, ইউনাইটেড ইন্সু., মোজাফ্ফর হোসেন স্পিনিং, আনলিমা ইয়ার্ন, প্রাইম টেক্স, প্রগতি ইন্সু., মতিন স্পিনিং, এইচআর টেক্স ও ইউনাইটেড পাওয়ার। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, নরদার্ন ইন্সু., এসএস স্টিল, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, পপুলার লাইফ ইন্সু., গোল্ডেন হারভেস্ট, বিআইএফসি, ওয়েস্টার্ন মেরিন, সাভার রিফ্রেক্টরীজ ও তাল্লু স্পিনিং।
এদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৪৬৪ পয়েন্টে। সিএসইতে টাকার অঙ্কে ৩৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
