এবার নুরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

এবার ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে পালটা হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন ছাত্রলীগের নেতা ডি এম সাব্বির হোসেন। শাহবাগ থানায় গতকাল বৃহস্পতিবার দায়ের করা এই মামলায় হত্যাচেষ্টা ছাড়াও মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী সাব্বির হোসেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার এনামুল হকের ছেলে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাবেক সভাপতি এবং হামলার সঙ্গে জড়িত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বাড়িও গোপালগঞ্জে। মামলায় সাব্বির ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করেছেন। এর আগে পুলিশ বাদী হয়ে যে মামলাটি করে, সেই মামলার আসামিদের এ মামলায় আহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নুরের ওপর হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে গতকাল মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। এছাড়া হামলার ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করার আহ্বান জানিয়েছে উপাচার্যের করে দেওয়া তদন্ত কমিটি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, এজাহারনামীয় ২৯ জনসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন গত ২২ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার সময় লাঠি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ আট জনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। মারপিটের সময় তাদের মানিব্যাগ, মোবাইল ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয় আসামিরা। হামলার সময় গুরুতর আহতাবস্থায় অনেককে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। মামলায় ডাকসু ভবনে অনাধিকার প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামি যারা :ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মুহাম্মদ রাশেদ খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক এ পি এম সোহেল, আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান, আবু হানিফ, আমিনুল ইসলাম, তুহিন ফারাবী, মেহেদি হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হলের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন সিফাত, নাজমুল হাসান, আয়াতুল বেহেশতী, রবিউল হোসেন, আরিফুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, আরিফুর রহমানসহ ২৯ জন।

প্রমাণ চেয়েছে তদন্ত কমিটি :এদিকে হামলার ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তের স্বার্থে তথ্য প্রদানকারীর নাম-ঠিকানা গোপন         রাখা হবে বলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ডাকসু ভবন ও মধুর ক্যান্টিন এলাকায় সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য উপাচার্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রমাণসহ ঘটনার বিবরণ জমা দিতে অনুরোধ করা হলো। আগামী ২৮ ডিসেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে লিখিতভাবে তথ্য প্রদানকারীর নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বরসহ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিনের দপ্তরে সংরক্ষিত বক্সে তথ্য জমা দিতে হবে।

নুর সুস্থ, ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে যেকোনো সময় :হামলার ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ভিপি নুরুল হক নুর এখন সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, নুর শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও তার হাত এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আহতদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, হামলায় আহত ডাকসুর ভিপি নুরুল হকসহ যারা এসেছেন, তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ১৩ জন চিকিত্সকের একটি বোর্ড আহতদের চিকিত্সার বিষয়টি দেখভাল করছে। নুর ও ফারুককে আজ (গতকাল) হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অন্য ছাত্রদের অবস্থাও স্থিতিশীল। গত পরশু এ পি এম সুহেলের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। তাকে আজ আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে স্থানান্তর করা হতে পারে। তুহিন ফারাবীও ভালো আছেন।

রিমান্ডে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতা : মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল,  কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এ এস এম আল সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্যসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩৫ জনকে ঐ মামলায় আসামি করে পুলিশ। এদের মধ্যে পুলিশ আল মামুন ও তুর্যসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। পুলিশ মামলা করার পরদিন আহত নুরের পক্ষে মামলা করতে শাহবাগ থানায় যান ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক  আখতার হোসেন। হামলার জন্য ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইনসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে সেখানে অভিযোগ করা হয়। নুরের পাঠানো ঐ অভিযোগেও মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে মামলাটি আলাদাভাবে নথিভুক্ত না করে আগের দিন পুলিশের করা মামলার সঙ্গেই নুরের অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার ডাকসু ভবনে নুরের ওপর হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপরই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাকসু ভিপি নুরকে দেখতে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। নুরকে দেখে আসার পর সাংবাদিকদের নানক বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। আমরা শুনেছিলাম, তবে ঘটনাটা এত বর্বর ও পৈশাচিক হয়েছে, সেটা আমরা বুঝতে পারিনি।