হত্যায় সরাসরি জড়িত দুই জন শনাক্ত

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩১

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের শান্তিনিকেতন এলাকার বাসায় ব্যবসায়ী শাহ মো. তবারক হোসেনকে হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে দুই জনকে শনাক্ত করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে হত্যার রহস্য জানা যাবে। হত্যাকাণ্ডের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সাইফুলসহ অন্যদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে হত্যায় জড়িত কয়েক জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি জড়িত দুই জনকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চলছে। আপাতত অর্থ লুট ও মতাদর্শিক বিরোধের জের ধরে খুনের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মুহাম্মদ হাবীবুন নবী আনিছুর রশিদ বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। শিগিগরই হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন শান্তিনিকেতন এলাকার মসজিদ গলির ১৭৮ নম্বর বাসার চতুর্থ তলায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকতেন শাহ মো. তবারক হোসেন। বুধবার ভোরে ফ্ল্যাটে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তবারক মহাখালীর মামা প্লাজা নামে একটি মার্কেটের মালিক। চট্টগ্রামের শফি মাইজভাণ্ডারীর অনুসারী ছিলেন তিনি। খুনের ঘটনায় তার ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছায়া তদন্ত করছে।

বাদী মোবারক হোসেনের ধারণা, বাসায় রাখা টাকা-পয়সা লুটের জন্যই তার ভাইকে হত্যা করা হয়। সাইফুল এতে জড়িত থাকতে পারে। তিনি তবারকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ‘বাবা’ ডেকে, হাত-পা টিপে নানাভাবে তবারকের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। এ কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর সুযোগ নিয়ে তিনি টাকা লুটপাট করে থাকতে পারেন। মহাখালীর মার্কেটটি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও সে কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন না তিনি।

এদিকে বুধবার খুনের পরপরই পুলিশ সাইফুল ও দুই নিরাপত্তা কর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে গতকাল পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, তবারক হোসেনের মরদেহ মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে শাহাদত হোসেন তুষার দেশে ফিরবেন। এরপর তবারকের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের চরপাড়ায় নিয়ে দাফন করা হবে।