বসুন্ধরাকে হারিয়ে গ্রুপসেরা চট্ট. আবাহনী

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৯

স্পোর্টস রিপোর্টার 

গেলোবারের রানার্সআপ বসুন্ধরা কিংসকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপসেরা হয়েই শেষ আটে গেলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ মারুফুল হক জানালেন  শিরোপা পুনরুদ্ধারই দলটির চূড়ান্ত লক্ষ্য।

ফেডারেশন কাপের নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দলই ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছিল। দুই ম্যাচে হেরে ব্রাদার্সের বিদায়ের ফলে চট্টগ্রাম আবাহনী ও বসুন্ধরার শেষ আট নিশ্চিত ছিল আগেই। ফলে গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচটিতে সাইডবেঞ্চের শক্তি পরখ করে দেখতে চাইছিলেন বসুন্ধরা কোচ। বিশ্রামে ছিলেন তারকা ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিন্দ্রেস ও চলতি মৌসুমেই দলে আসা জালাল কদুহ।

তারপরও ম্যাচের শুরুতে কর্তৃত্ব ছিল গেলোবারের লিগ চ্যাম্পিয়নদেরই। ছোটো ছোটো পাসে মাঝ মাঠের দখলটা নিয়েছিল কোচ অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা। শুরুতে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী প্রতি আক্রমণের কৌশল নিয়ে ম্যাচে ফেরে এর কিছু পরই? প্রথম গোলটা তারই ফসল। অধিনায়ক চার্লস দিদিয়েরের ক্রসে গোলমুখে থাকা চিনেদু ম্যাথিউ পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। তবে ফাঁকায় থাকা রাকিব হাসান ঠিকই দারুণ শটে বল জড়ান বসুন্ধরার জালে।

পিছিয়ে পড়েও বসুন্ধরা খেলেছে পুরোনো ছকেই। মাঝ মাঠের দখলটা প্রতিপক্ষ রক্ষণ পর্যন্ত নিয়ে যেতে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। বিরতির ঠিক আগে ডিফেন্ডার আখতাম নাজারোভ লাল কার্ড দেখেন। এর পরের মিনিটেই আরো এক গোল হজম করে লিগ চ্যাম্পিয়নরা। নাসিরুল ইসলামের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন প্রথম গোলের যোগানদাতা চার্লস দিদিয়ের।

১০ জনের দল নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোলের ব্যবধান কমানো একপ্রকার অসম্ভবই ছিল বসুন্ধরার। তবুও লেবানিজ ফরোয়ার্ড জালালকে নামিয়ে একটা চেষ্টা করেছিলেন কোচ ব্রুজন। ৬৭ মিনিটে ইমন বাবু পেয়েছিলেন সবচেয়ে বড়ো সুযোগটা? চট্টগ্রাম আবাহনী রক্ষণের জটলা থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট করলে ব্যবধান আর কমানো হয়নি কিংসের।

সুযোগ পেয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনীও। ৭৫ মিনিটে দিদিয়েরের শট গোলরেখা থেকে ফেরান নুরুল নাইম ফয়সাল। ৮০ মিনিটে নাসিরের ক্রস থেকে রাকিবের হেডও গোলরেখা থেকে ফেরান বসুন্ধরা গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। ফলে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি চট্টগ্রামের দলটি। তবে দুই গোলের জয় তাদের এনে দিয়েছে ‘বি’ গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্ব। 

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দলটির কোচ মারুফুল জানালেন, দলটির আপাতত লক্ষ্য সেমিফাইনাল হলেও চূড়ান্তভাবে শিরোপাই পুনরুদ্ধার করতে চায় তার দল। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগেই বলেছিলাম শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে চাই। তবে তার জন্য সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে হবে আগে।’

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ থেকেই আলো ছড়াচ্ছে চার্লস দিদিয়ের আর চিনেদু ম্যাথিউ জুটি। মারুফুল জানালেন চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে দুজনের পাশাপাশি জ্বলে উঠতে হবে দলকেও, ‘দুজনের অবদান দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করা কঠিন। পারফর্ম করতে হবে পুরো দলকেই।’