জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৯

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার নেই। জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। দেশের শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। দেশবাসীর ভোটে যদি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ। যদি না পারি কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু দেশে শান্তি বজায় থাকুক। নির্বাচনে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে সেজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)’র উদ্যোগে ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক ব্যবসায়ী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ‘আশার প্রতীক’ আখ্যায়িত করে পুনরায় তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় সব সময় তার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির প্রতি শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সমর্থন করে ব্যবসায়ীগণ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শান্তি সমৃদ্ধির দেশ গড়ার মাইলফলক। দেশের শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তাবৃন্দ, সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তথ্য প্রযুক্তি এবং বিদ্যুত্ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সেবাখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংগঠনের কর্তাব্যক্তিগণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে উদযাপন করার সুযোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। যেন উন্নয়নটা অব্যাহত রাখতে পারি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকা প্রতীকে ভোট চাই। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার আরেকবার অন্তত সুযোগ দিন, আমরা উন্নয়নের কাজগুলো যেন শেষ করতে পারি।

বাংলাদেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড।’ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থানটা যদি দেখেন তাহলে দেখবেন ইউরোপের একদিক থেকে আরেকদিকে যেতে গেলে সুইজারল্যান্ডকে ব্যবহার করতে হয়। একটা শান্তিপূর্ণ দেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকেই সেভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।’ বঙ্গবন্ধু প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন রচনা করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সে উন্নয়নের কাজও আমরা হাতে নিয়েছি। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ ও সদ্ভাব সৃষ্টি করা, সেটাও আমরা খুব সফলতার সাথে করতে পেরেছি।’

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস থাকলে দেশে কোনো উন্নতি হয় না। কাজেই আমরা চাই দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকুক। কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশটা থাকলে দেশটা এগিয়ে যাবে।’  শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের জন্য কী রাখতে হবে, না হবে ওই চিন্তা কখনো করি না। আমি চিন্তা করি, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কী রেখে গেলাম, কী করে গেলাম, ভবিষ্যতের জন্য কী করব। সকলের ছেলে-মেয়েই ভবিষ্যতে সুন্দর জীবন পাক, সেটাই আমি চিন্তা করি। আর সেভাবেই আমাদের সকল কর্মকাণ্ড, সকল পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।’

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে গত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির, এ কে আজাদ, এফবিসিসিআই পরিচালক ও বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান, বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিহাত কবির, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা রোকেয়া আফজাল রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস রুবানা হক, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম পারভেজ, এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিসুদ্দৌলা, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফলি, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরীসহ দেশের উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনিসুর রহমান সিনহা, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, প্রকৌশলী কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, আবদুল মুক্তাদির, মাইকেল পলি, মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফসহ সারা দেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ব্যবসায়ী এ সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনের শুরুতে বর্তমান সরকারের নানা সাফল্য এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশমান অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা অতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। এফবিসিসিআই সভাপতির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় এবং সারা দেশ থেকে আসা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থন এবং সংহতি প্রকাশ করেন। শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই দেশের চলমান উন্নয়নের গতিধারা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ দেশে বজায় থাকুক।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তার দরজা দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য সব সময় খোলা থাকে। ব্যবসায়ীরা যে কোনো প্রয়োজনেই তাকে কাছে পেয়ে থাকেন।