আড়াইহাজারের জয়িতা খাদিজার জীবন সংগ্রামের গল্প

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০৭

২০১৮ সালে উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বেগম রোকেয়া দিবসে যে ৫ জন জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে, আড়াইহাজারের খাদিজা আক্তার (৩০) তাদের মধ্যে অন্যতম। খাদিজার ইচ্ছা জীবনে কোনো সুযোগ আসে তবে সরকারি চাকরি করে নিজের এবং দেশের জন্য কিছু করার। শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন দরিদ্র ঘরের মেয়ে খাদিজা এবং শেষ পর্যন্ত স্নাতক পাস করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার ইচ্ছা সরকারি কোনো চাকরি পেলে নিজের সংসারের পাশাপাশি দেশের জন্যও কিছু একটা করবেন।

খাদিজা আক্তার ১৯৮৮ সালের ২০ জানুয়ারি আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী উত্তর পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন সাধারণ গরিব কৃষক। বাবার আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকায় খাদিজার পক্ষে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। খাদিজা বলেন, ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় স্থির  করলাম যে বড় হয়ে সরকারি চাকরি করব। কিন্তু ১০ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের আপত্তির কারণে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। আমার স্বামী দুলাল মিয়া একজন সাধারণ শ্রমিকের কাজ করেন। দরিদ্র সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। তিনি আরও জানান, সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে আমি সচেষ্ট হই। নিজ উদ্যোগে আবার লেখাপড়া শুরু করি। টিউশনি ও সেলাইয়ের কাজ করে লেখাপড়ার খরচ চালাই। কিন্তু তাতেও বাধা দেয় শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকজন। শত বাধা সত্ত্বেও আমি বহুকষ্টে লেখাপড়া চালিয়ে যাই। ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করি। বিয়ের ২ বছর পর আমার ছেলে সন্তান হয়। ২০০৫ সালে আমি এইচএসসি পাস করি। ২০০৯ সালে ডিগ্রি পাস করার পর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়।

খাদিজা জানান, আমি যখন লেখাপড়া করছিলাম তখন পরিবারের সকলে বলতে থাকে এই মেয়ে যদি লেখাপড়া করে তবে স্বামীকে ছেড়ে চলে যাবে। আমাকে নিষেধ করা হয় লেখাপড়া করাতে। বাড়তে থাকে মানসিক চাপ। এভাবে অনেক কষ্টে আমাকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়েছে। ডিগ্রি পাস করে কৃষি অফিস থেকে ২৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আই.এফ.সি প্রকল্পে শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছি। বর্তমানে আমার ২ সন্তান লেখাপড়া করছে। স্বামী সংসার নিয়ে ভালোভাবেই জীবন চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমা আক্তার জানান, খাদিজা সমাজের নারীদের মধ্যে  দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি সকল নারীদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।