বৈরী আবহাওয়ায় দুবলার চরে পচে যাচ্ছে শুঁটকি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:১১

বঙ্গোপসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলার চরে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমের শুরুতেই জেলে ও মত্স্যজীবীরা হোঁচট খেতে শুরু করেছেন। নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চলতি ডিসেম্বর মাসে দেখা দিয়েছে বৃষ্টি, কুয়াশা আর মেঘ। এ অবস্থায় রোদের অভাবে সাগর থেকে আহরিত বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ শুকাতে না পারায় তা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ।

অন্যদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা, কুয়াশা আর বৈরী আবহাওয়ায় বিপুলসংখ্যক জেলে গভীর সাগর থেকে ট্রলার নিয়ে সুন্দরবন উপকূলে ফিরে এসেছে। অমাবশ্যার ভরা গোনে এসব জেলে এখন দুবলার চর ও সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় অলস সময় অতিবাহিত করছে। এতে করে সুন্দরবন উপকূলের জেলে ও মত্স্যজীবীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বহু বছর ধরে অক্টোবর মাস থেকে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের দুবলার চরে সামুদ্রিক মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের মৌসুম শুরু হয়ে এলেও ৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ সব ধরনের মত্স্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় এবার ৩০ অক্টোবর রাত ও ৩১ অক্টোবর ভোর থেকেই শুরু হয় সামুদ্রিক মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের মৌসুম।

সাগরগামী মত্স্যজীবীদের বৃহত্ সংগঠন দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সাম্প্রতিককালে বৃষ্টি, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ জেলে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ না ধরে দুবলার চর এলাকায় চলে এসেছে। এছাড়া রোদের অভাবে মাছ শুকানো না যাওয়ায় তা পচে যাচ্ছে। এতে একদিকে সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ রয়েছে অন্যদিকে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণও করা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড ঠান্ডায় জেলে ও মত্স্যজীবীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। করছেন মানবেতর জীবনযাপন। তিনি বলেন, এখানকার গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে জেলে, মত্স্যজীবীসহ এ খাতে অন্তত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশে

দুবলার চর এলাকার মোংলার মত্স্যজীবী জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বুলবুল জানান, জেলে ও মত্স্যজীবীরা ঋণ করে সাগরে মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়ায় এসেছে। সমুদ্রে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে এ বছরও সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়ার চরে সমবেত হবেন হাজার হাজার জেলে-মহাজন। এভাবে দুর্যোগ অব্যাহত থাকলে কি করে তাদের ঋণ শোধ করবেন, তা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

সুন্দরবনের দুবলার চর জেলে পল্লির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার অসিত কুমার রায় বলেন, আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত মোংলা, রামপাল, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও বরিশালসহ সুন্দরবন উপকূলের কয়েক হাজার জেলে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির জন্য সাগর পাড়ে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছেন। এছাড়া বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলে ও মত্স্যজীবীরাও এসেছেন এই চরে। ইতিমধ্যে উপকূলের হাজার হাজার জেলে ও মত্স্যজীবী দুবলার চর এলাকায় মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির কাজে যোগ দিয়ে দুই দফায় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বেলায়েত হোসেন বলেন, শেষ মৌসুম পর্যন্ত আর যদি দুর্যোগ না ঘটে তাহলে আশা করা যায় এবার জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়া করে লাভবান হবেন। এতে করে বন বিভাগের টার্গেট করা রাজস্ব আয়ও পুরোপুরি আদায় সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/এসইউ