বিদায় নিচ্ছে আরেকটি বছর। আগামীকাল পর থেকে গণনা শুরু হবে নতুন বছর। ২০২০ সালের আগমনের আগ মুহূর্তে বিশ্বের সব মানুষ শেষবারের মতো বিদায়ী বছরটি কেমন গেল তা স্মৃতির পাতায় ঘুরে দেখার চেষ্টা করছেন। তেমনি ২০১৯ সালে ভিন্নচোখের পাতাজুড়ে উঠে এসেছিল বিভিন্ন বিষয়। আলোচিত ঘটনা, শুভ কাজ, ভ্রমণ, সফল ব্যক্তি ও প্রতিভাবানদের গল্প ছাপানো হয়েছে বছর জুড়ে। কিছু কিছু ঘটনা প্রচ্ছদেও স্থান পেয়েছে। বছরের শেষ সংখ্যায় ভিন্নচোখে পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই ১২ মাসের ১২ সংখ্যা—
জানুয়ারি
খ্যাতিমানদের সাক্ষাত্ পাওয়া মোটেও সহজ নয়। কিন্তু এই অপূর্ণতা পূরণে বিশ্বে তৈরি হয়েছে ওয়াক্স মিউজিয়াম বা ‘মোমের জাদুঘর’। রাজধানীর গুলশান ১-এ ছোট পরিসরে চালু হয় ‘সেলিব্রেটি গ্যালারি’। এখানেই এক ছাদের নিচে মিলে অনেক বিখ্যাত মানুষের ভাস্কর্যের সাক্ষাত্। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি বেশ আলোচনায় ছিল।
ফেব্রুয়ারি
অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূতাবাসের শুভেচ্ছাদূত করা হয় ২০১১ সালে। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান ও শিশুদের পাশে দাঁড়াতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন আঞ্জেলিনা জোলি। ‘মানবতাময়ী’ এই অভিনেত্রী রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প করেছেন, শুনেছেন তাদের দুঃখের কথা। ফেব্রুয়ারির প্রচ্ছদে উঠে এসেছিল সেই গল্প।
মার্চ
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অ্যাভিয়েশন ব্লগার স্যাম চেন ও ফুড ব্লগার ট্রেভর জেমস। তারা দু’জনই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি শহরে ঘুরেছেন। নিজেদের আগ্রহের বিষয়ের বাইরেও স্বল্প সময়ের মধ্যে দু’জনই এদেশের মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, খেয়েছেন এখানকার জনপ্রিয় খাবারগুলো। তাদের দু’জনের বাংলাদেশ সফরের গল্প স্থান পায় মার্চের দ্বিতীয় সংখ্যায়।
এপ্রিল
৬৯ বছর বয়সী লুত্ফর রহমান। থাকেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের পাশে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি বাঁধে। ১ টাকার বিনিময়ে নিজের পরিবারের সুখ-শান্তির চিন্তা না করে তিনি ৪০ বছর ধরে দরিদ্র শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো। এপ্রিলের প্রথম সংখ্যায় প্রচ্ছদে ছিল ‘এক টাকার মাস্টার’।
মে
চলতি বছর ‘স্ট্রিট চাইল্ড’ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশের পথশিশুরা। অ্যাডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো) পথশিশুদের দু-মুঠো খাবারের বদলে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সেই স্বপ্ন নিয়েই ইংল্যান্ডের মাটিতে সেমিফাইনাল খেলেছিল তারা।
জুন
বাংলাদেশি তরুণ ফাহিম মোহাম্মদের ফ্রান্স পাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্বজয়ের গল্প উঠে এসেছিল জুনের তৃতীয় সংখ্যায়। এরপরই বাংলাদেশে বেশ আলোচিত ছিলেন এই তরুণ। এ বছরই তাকে নিয়ে বানানো চলচ্চিত্র ‘ফাহিম’ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন ফরাসি পরিচালক পিয়ের-ফ্রঁসোয়া মার্তা-লাভাল।
জুলাই
ঐতিহ্যবাহী ইন্দ্রমোহন সুইটসের প্রতিষ্ঠাতার নাম ইন্দ্রমোহন দে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দোকানের হাল নিজেই ধরে রেখেছিলেন। পরে ছেলে ও নাতি গদিতে বসেন। কিন্তু ২০১৯ সালে ১৩০ বছরের পুরোনো ঠিকানা গুটিয়ে নিয়েছেন তারা। খুলনার ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টি দোকানের শুরু থেকে শেষ হওয়ার গল্প বলা হয়েছিল জুলাইয়ের দ্বিতীয় সংখ্যায়।
আগস্ট
আমাজন, নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য। এখান থেকেই তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অক্সিজেনের জোগান আসে। সেই সময়ে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় ছিল এই বনটিই। কারণ হঠাত্ সেখানে দাবানল সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘদিন সবুজ চাঁদোয়ার নিচে দাঊদাঊ করে জ্বলছিল আগুন।
সেপ্টেম্বর
স্থাপত্যের সবচেয়ে প্রাচীন সম্মানজনক পুরস্কার ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্টিটেকচার ২০১৯’ পেয়েছে ধলেশ্বরী নদীর তীরের ‘বাঁশের স্কুল’। এটির মূল নাম ‘আর্কেডিয়া অ্যাডুকেশন প্রজেক্ট’। বাঁশ, দড়ি আর ড্রাম ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করা হয়নি স্থাপনাটিতে। বিশ্বজয়ী এই স্থাপনার গল্প উঠে এসেছিল সেপ্টেম্বরে।
অক্টোবর
বিশ্বজুড়ে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাইতো ভয়ঙ্কর ও রহস্যময় জায়গাগুলোতে মানুষের আনাগোনাও বাড়ছে। ভিন্নচোখে’র ওই সংখ্যার মূল বিষয় ছিল তিনটি ‘অ্যাডভেঞ্চার গল্প’। কোনোটি ঝাঁপ দেওয়া, কোনোটি শূন্যে উড়ে বেড়ানো, আবার একটি গল্পে ফুটে উঠেছিল হাজারিখিল ট্রেইলে হাঁটার গল্প।
ডিসেম্বর
বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রেবেকা শবনম। খ্যাতি পেয়েছেন ‘দ্য গ্রেটা শবনম’ নামে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সোচ্চার সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ম্যানহাটানে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের সামনের সারিতে ছিলেন রেবেকা শবনম। তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
নভেম্বর
হুইল চেয়ারের সঙ্গে বিশেষ উপায়ে লাগানো ক্যানভাসে গরু, গাছ, মানুষসহ অনেককিছুর ছবি আঁকেন নওগাঁর মান্দার এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে হারিয়েছেন দুই হাত, আর পগু হয়েছে তার পা। এতে করে তার সব ওলটপালট হয়ে যায়, তারপরও আঁকা ছাড়েননি তিনি।
