খাটের নাট বল্টু হারিয়ে ফেলায় স্ত্রীকে কোপালো স্বামী!

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩১

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় খাটের নাট বল্টু হারিয়ে ফেলায় গৃহবধূ শরিফা বেগমকে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথায় কুপিয়েছে পাষণ্ড স্বামী নূর হোসেন। ওই গৃহবধূ বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী ও তার দেবরের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ গোতামারী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। গৃহবধূ শরিফা বেগম উপজেলার দক্ষিণ গোতামারী গ্রামের নূর হোসেনের স্ত্রী। তিনি উপজেলার উত্তর বিছনদই এলাকার আব্দুর রশিদের কন্যা।

অভিযুক্তরা হলো, উপজেলার দক্ষিণ গোতামারী গ্রামের আবুল হোসেন, তার স্ত্রী মহুরন নেছা, পুত্র নূর হোসেন, নুরুজ্জামান ও নুরুল হক।

জানা গেছে, ১২বছর আগে নূর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় শরিফা বেগমের। বিয়ের সময় ৫০হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে কারণে অকারণে নানা ভাবে নির্যাতন করা হয় শরিফা বেগমকে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে খাটের নাট বল্টু হারিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ শরিফা বেগমকে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী ও দেবররা। তারপর ধারালো ছুরি দিয়ে মাথায় কোপ দেয় তার স্বামী নূর হোসেন। পরে স্থানীয়রা শরিফা বেগমকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। 

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাথার যন্ত্রণায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন শরিফা বেগম। এ সময় তিনি সংবাদিকদের বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী ও দেবররা আমাকে নানা কারণে মারধর করে। সামান্য ভূল হলে আমাকে মারধর করা হয়। শুক্রবার বিকেলে খাটের নাট বল্টু হারিয়ে যাওয়ায় আমাকে মরধর করা হয়। এরপর আমার স্বামী হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয়। আমি আর কিছু বলতে পারি না। চোখ খুলে দেখি হাসপাতালে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নূর হোসেন বলে, ’খাটের নাট-বল্টু হারিয়ে গেছে। সে জন্য গালমন্দ করা হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি। তাকে সামান্য ধাক্কা দিলে খাটে লেগে মাথা ফেটে গেছে। আমরাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’

আরও পড়ুন: বাঘায় মেয়র-প্রকৌশলীর নিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তার কাজ করছেন ঠিকাদার!

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু