দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মতো পাহাড়ি খাগড়াছড়ির উপত্যকাতেও জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্বত্য খাগড়াছড়ির জনজীবন। সূর্যের দেখা মিলছে অনেক দেরিতে। প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষকে দেখা যাচ্ছে শীত নিবারণের গরম কাপড় কেনাকাটায়। রোদ উঠলেও উত্তাপ থাকে না। শীতের তীব্রতায় কর্মজীবী মানুষ সন্ধ্যার আগেই ফিরছে ঘরবাড়িতে। সন্ধ্যার পর থেকেই হাটবাজারগুলো ফাঁকা হতে শুরু করে। শীতার্ত মানুষদের খড়কুটো দিয়ে আগুনের কুণ্ডুলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। স্থবিরতা দেখা দিয়েছে স্বাভাবিক কাজকর্মে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু শত শত পর্যটক বিপাকে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রাস্তায় যানবাহনগুলোকে দুপুরে সূূর্য না ওঠা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও প্রচণ্ড ঠান্ডায় জেলার সর্বত্র নিউমোনিয়া, এলার্জি ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। অন্যদিকে শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও দিনমজুর শ্রেণির খেটে-খাওয়া মানুষ। অল্প কিছু কৃষক ও শ্রমিককে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য গরু-ছাগলের গায়ে চট দিয়ে মুড়িয়ে গোয়ালঘরে রাখা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বাহারউল্লাহ জানান,‘এখন পর্যন্ত জেলায় ১৯ হাজার ৭০০ কম্বল ১২টি উপজেলা ও পৌরসভায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি ও গুইমারা অঞ্চলের ব্রিগেড সদর দপ্তর কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর জোন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে অন্তত ৩ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে।
