শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের বছর

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৭

শিক্ষাঙ্গন

বড়ো অর্জন ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি

g নিজামুল হক

 

প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর এক সঙ্গে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে যা শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বড়ো অর্জন। আর দীর্ঘ ২৮ বছর পর এ বছরেই অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ ীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি অনুষদসংবলিত সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালু  হয়েছে এ বছরই। বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন ও এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও চাঁদপুরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে এ বছরেই।

বছর শেষে গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগসহ অধীন দপ্তর-সংস্থার ৫১টি অর্জন তুলে ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি পাঠিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তবে উচ্চশিক্ষায় অস্থিরতায় এ অর্জন যেন ম্লান। ২০১৯ সাল জুড়েই ছিল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন উত্তপ্ত ছিল ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। সিসিফুটেজের ভিডিও দেখে জেগে ওঠা সারাদেশ।  দ্রুতই ধরা পড়ে অপরাধীরা। ঐ সময় দীর্ঘদিন অচল ছিল বুয়েট।

এর আগে মার্চে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম ইমামুল হক। দীর্ঘ আন্দোলনে ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুুক্ত হন শিক্ষকরা। এক পর্যায়ে উপাচার্য পদ ছাড়তে বাধ্য হন।

সেপ্টেম্বরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসাদচরণের অভিযোগে সৃষ্ট আন্দোলন চলে কয়েক সপ্তাহ। তবে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন।

উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং গাছ কাটা নিয়ে বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আন্দোলনের শুরু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের কমিশন বাণিজ্য ইস্যুতে পদ ছাড়তে হয় ছাত্রলীগের কেন্দ ীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। গত নভেম্বরে ভিসির পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন এ বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেও ডাকসু পরিস্থিতি ভালো ছিল না। ছাত্রলীগকে টপকে কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নুরের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে থাকতে হয়েছে ডাকসুর ভিপিকে।

২০০৯ সাল থেকে বন্ধ ছিল এমপিওভুক্তি। তবে বিষয়টি নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন। এছাড়া সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদেও এমপিওভুক্তির দাবিতে সরব ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৩ অক্টোবর ২ হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কিছু এমপিওভুক্তির বাছাইয়ে কিছু ভুলত্রুটি থাকায় সমালোচনায় পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। নাম সর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছে।

গত প্রায় ৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং শিক্ষা আইন তৈরির কাজ নিষ্পত্তি হয়নি বিদায়ি বছরেও। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। প্রায় সারাবছরই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি-অনিয়ম আর লুটপাটের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। প্রত্যেকটি ঘটনায় অভিযোগের তীর প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ প্রথম আলোচনায় অধ্যক্ষ নিয়োগ ইস্যুতে। জিবির তত্কালীন সভাপতিসহ কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে পছন্দের ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ নিয়োগের অপচেষ্টার।

শিক্ষায় বিশেষ অর্জন :চলতি বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অর্জন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিশ্বস্বীকৃতি আদায়। ইউনেসকো গত ২৫ নভেম্বর মুজিববর্ষকে বিশ্বস্বীকৃতি দেয়। ফলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন হবে বিশ্বব্যাপী ১৯৫টি দেশে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের তত্ত্বাবধানেই মুজিববর্ষের বিশ্বস্বীকৃতি আদায়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়।