চলতি মাসের শুরু থেকে উৎপাদনশীল খাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের ঘোষণা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়। গত সোমবার রাতে ব্যাংক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী তা তিন মাস পিছিয়ে আগামী এপ্রিল থেকে কার্যকরের ঘোষণা দেন।
তবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ক্ষেত্রে এক অঙ্কের সুদহার চলতি মাস থেকেই কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ।
মঙ্গলবার বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক এ দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় কমানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশের তুলনায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে দেশের বস্ত্র তৈরির পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধিসহ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে। এরূপ পরিস্থিতিতে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সংকট উত্তরণে সহযোগিতা করার জন্য ৯ শতাংশ হারে ব্যাংকের সুদের হার ১ এপ্রিলের পরিবর্তে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা একান্ত প্রয়োজন।
আরো পড়ুন : লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ইসির
যোগাযোগ করা হলে বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, এ দাবি পোশাক খাতের পাশাপাশি বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদেরও। বাজেট কার্যকর হয়েছে জুলাই থেকে। অনেক ঘোষণা আর সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবায়নের সঙ্গে ফারাক রয়ে গেছে। রপ্তানি কমছে। সবকিছু যদি এত দেরিতে কার্যকর করা হয়, তাহলে তো এ খাতের টিকে থাকাই কঠিন হবে। তিনি বলেন, সরকারের ঘোষণা ছিল সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার জানুয়ারির শুরু থেকে বাস্তবায়নের। হঠাত্ করে তিন মাস পেছানোর ঘোষণা কেন এলো?
প্রসঙ্গত, দেশে ঋণের উচ্চ সুদহার এখন বহুল আলোচিত ইস্যু। উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসায়ের খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিল্পোদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী অন্যান্য দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশে সুদের হার বেশি বলেও দাবি তাদের। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বেশির ভাগ ব্যাংকই তা বাস্তবায়ন করেনি। এ পরিস্থিতিতে চলতি মাস থেকে ঋণ আমানদের সুদের হার যথাক্রমে ৯ ও ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে গত মাসের শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
ইত্তেফাক/ইউবি

