নতুন বছরে পারমাণবিক ও আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ওপর থেকে স্বঘোষিত স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। তাছাড়া শীঘ্রই নতুন কৌশলগত অস্ত্র তৈরির ঘোষণাও দিয়েছেন এই নেতা। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হওয়ায় নতুন বছরে নিজেদের কৌশল নির্ধারণে চার দিনব্যাপী এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর কিম এসব ঘোষণা দেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে কয়েক দফার আলোচনা ভেস্তে গেছে। ফলে কিম যুক্তরাষ্ট্রকে নিরস্ত্রীকরণে কার্যকর প্রস্তাব দিতে এ বছরের শেষ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে বেশ কিছু হালকা অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে উত্তর কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে নিজেদের বিরত রাখে পিয়ংইয়ং।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ায় থামছেই না দাবানল, ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের প্রাণহানি
তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণযোগ্য কোন প্রস্তাব না দেওয়ায় আবারও পারমাণবিক ও আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু ঘোষণা দিলেন কিম।
কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এবং তাদের নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও বাড়িয়েছে, তাই উত্তর কোরিয়া স্বঘোষিত স্থগিতাদেশ মানতে বাধ্য নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলাই রাখছে উত্তর কোরিয়া। কিম বলেন, ‘অস্ত্র পরীক্ষার ধরণ কেমন হবে সেটি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের উপর।’
পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছা না গেলে আরও কঠিন পথে হাঁটার হুমকি দিয়েছেন কিম। তিনি বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব একটি নতুন কৌশলগত অস্ত্রের সাক্ষী হবে।
