গতকাল দুপুরে বাফুফের জরুরি সভায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনা হলেও সভা শেষে উঠে আসল ফিফার জরিমানার খবর। সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিষয়ে কথার ফাঁকে ফিফার জরিমানার কথাও প্রকাশ করা হয়। ঘটনাটি আগের। এত দিন লুকিয়ে রেখেছিলেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। ফিফার অটল অবস্থানের কারণে বাধ্য হয়ে প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন করার আগেই সাধারণ সম্পাদক জানালেন ফিফা কি কারণে দুটি জরিমানা করেছে। একটি হচ্ছে—ঢাকায় ১০ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কাতার এবং বাংলাদেশের খেলায় দর্শক ফেন্সিং টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ কারণে জরিনামা হয়েছে ১৫ হাজার সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশের মুদ্রায় ১৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। আরেকটি জরিমানা হচ্ছে ফিফার টাকায় যেসব বাংলাদেশের ১৯ কোচ বাফুফেতে চাকরি করছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি। এই কারণে ফিফা ১৫ কোচের তিন মাসের বেতন বাবদ ২৮ হাজার ডলার, বাংলাদেশের টাকায় ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা কর্তন করা হয়েছে।
কাতার বাংলাদেশের ম্যাচে আবাহনীর গ্যালারির হতে ফেন্সিংয়ে উঠা দর্শকের ছবি তুলেছেন মাঠে থাকা ফিফার প্রতিনিধি। পাঠানো হয় ফিফায়। ফিফা কারণ দর্শাও চিঠি পাঠিয়ে ছিল। বাফুফেও জবাব দিয়েছে। কিন্তু কোনো অজুহাত মানতে রাজি না ফিফা। জরিমানা করেছে ১৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। আগের বারও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান দর্শক মাঠে ঢোকার চেষ্টা করায় বাফুফেকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তারও আগে এএফসি কাপে আবাহনীর খেলায় আবাহনীর দর্শক মাঠে ঢুকেছিল বলে জরিমানা করা হয়। এবারও আবাহনীর উচ্ছৃঙ্খল দর্শক মাঠে ঢুকতে গিয়ে বাফুফেকে জরিমানার ফাঁদে ফেলেছে।
২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার জরিমানাটা খুবই হাস্যকর। কোচরা হাজিরা খাতায় সই না করায় এই জরিমানা। ফিফা ১৯ কোচের বেতন দেয় বাফুফেকে। কোচদের কাজ হচ্ছে ফুটবল উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া। সেই সঙ্গে কোচরা হাজিরা খাতায়ও সই করবেন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানালেন ফিফার অডিট অফিসাররা অডিট করতে এসে কোচদের হাজিরা খাতায় সই পাননি। তিনি বলেন,‘সব সময় সব কোচ ঢাকায় থাকেন না। কোচরা ঢাকার বাইরেও কাজ করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠল অডিট কর্মকর্তারা ঢাকায় আসবেন সেটা আগে হতেই জানা। তাহলে তিনি কেন ঢাকার বাইরের কোচদের আনিয়ে খাতায় সই করিয়ে রাখলেন না। তাহলে তো ১৫ কোচ তিন মাসের বেতন বঞ্চিত হতেন না। কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
