গোয়ালন্দে পেঁয়াজের দামে কৃষক খুশি

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৯

রাজবাড়ী গোয়ালন্দে এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে পদ্মা পাড়ের পেঁয়াজ চাষিদের। আর কৃষি বিভাগ বলছে, একই জমিতে দুই বার পেঁয়াজ আবাদ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছে। তবে এই দাম আগামীতে না পাওয়ার সম্ভাবনাও তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানায় একাধিক কৃষক।

ভালো ও উন্নতজাতের পেঁয়াজ উত্পাদনের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার। বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানিতে ডুবে যায় নদী তীরের বেশির ভাগ এলাকা। একদিকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আশীর্বাদ স্বরূপ রেখে যায় উর্বর পলি মাটি।

গোয়ালন্দে মুড়িকাটা, হালি ও দানা এ তিন ধরনের পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। জেলার কৃষকের ঘরে এখন উঠছে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ। চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মাথায় কৃষকরা এখন ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছে।

সরেজমিন গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মহিদাপুর চরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ পেঁয়াজের খেত। খেত থেকে পেঁয়াজ তুলছেন কিছু কৃষক। আর সেই পেঁয়াজের পাতা ছাড়িয়ে বিক্রি উপযোগী করছেন কৃষাণি ও পরিবারের ছোটো ছোটো সদস্যরা। অপরদিকে দানা পেঁয়াজসহ অন্য পেঁয়াজ খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। তেমন কোনো রাস্তা না থাকলেও ট্রাক নিয়ে সরাসরি জমিতে পৌঁছে গেছেন অনেক পেঁয়াজ ব্যাপারী। তারা সরাসরি জমি থেকে কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।

উপজেলার চর কর্ণেশনা গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ মোল্লা জানান, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে খরচ হয়েছে মোট ৬০ হাজার টাকা। বর্তমানে ২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। আশা করছেন অন্তত ১০০ মণ পেঁয়াজ তোলা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার টাকার পেঁয়াজ কলিও তিনি বিক্রি করেছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মুহা. মোহায়মেন আক্তার জানান, এ উপজেলায় তাহেরপুরী ও লাল জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে গোয়ালন্দে ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উত্পাদন হবে অন্তত সাড়ে ৩০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে বেশি দাম পাচ্ছে কৃষক। এছাড়া পেঁয়াজের ফলন বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ করাসহ বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে।