গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল

চিকিত্সক সংকটে রোগীরা দুর্ভোগে!

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০১

চিকিত্সক সংকটে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সা কার্যক্রম। বিভিন্ন সময় রোগীরা সেবা নিতে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অন্যত্র। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।

জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থোপেডিক সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মাহাবুব আলম, মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ হাসান মাসুদ খান, অর্থোপেডিক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ এম এ কাদের ও সার্জারির জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ বি কে এম তারিক হোসেন পদোন্নতি ও বদলিজনিত কারণে অন্যত্র চলে গেছেন। মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মো. আনছার আলী অবসরে গেছেন। অন্যদিকে হাসপাতালটিতে আড়াই বছর ধরে চক্ষু এবং নাক, কান, গলার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। আর এখন পর্যন্ত দেওয়াই হয়নি চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিত্সক।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের উত্তর ধানঘড়া গ্রামের ছকু মিয়া বলেন, গত ১০ নভেম্বর আমার মায়ের গলায় হাড় আটকে যাওয়ায় গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে নাক, কান, গলার ডাক্তার না থাকায় অন্য হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে হয়েছে।

গাইবান্ধা পৌর এলাকার সুখনগর এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, নভেম্বরে আমার স্ত্রীর কানে সমস্যার জন্য জেলা হাসপাতালে ডাক্তার না পেয়ে রংপুরে প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে চিকিত্সা করাতে হচ্ছে।

সন্ধানী ডোনার ক্লাবের উপদেষ্টা নাহিদ হাসান চৌধুরী রিয়াদ বলেন, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের অভাবে রোগীদের বেশি টাকা ব্যয় করে ডাক্তারের গাইবান্ধাস্থ প্রাইভেট চেম্বারে যেতে হয়। নয়তো রংপুর বা বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহফুজার রহমান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শূন্য জনবলের তালিকা আপডেট করা হয়েছে। তার মধ্যে থেকে ২৬ ডিসেম্বর সার্জারি বিভাগের একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট পাওয়া গেছে মাত্র। রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে গেলে ২০০ শয্যারই জনবল প্রয়োজন বলে জানান এই কর্মকর্তা।