বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন

নতুন বাজারে নতুন পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিন :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হালকা প্রকৌশল) পণ্যকে ২০২০ সালের ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণা করে বলেছেন, ‘আমাদের রপ্তানি নীতি অনুযায়ী পণ্যভিত্তিক রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমরা ২০২০ সালে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যকে জাতীয়ভাবে বর্ষপণ্য ঘোষণা করছি। এখাতে আমরা আরো বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।’   তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে এখন বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের জন্য সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে।’

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্য বৈচিত্র্যে জোর দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজারের সন্ধানে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে আমি বলব, একটা-দুইটা পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা না, আরো অধিক পরিমাণে পণ্য যেন আমরা উত্পাদন করতে পারি, রপ্তানি করতে পারি। আবার দেশের বাজারেও বা প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাতে সেই পণ্যটা প্রয়োজন হয়, সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। এখন ডিপ্লোমেসিটা হয়ে গেছে ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি। কাজেই ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা যায় কীভাবে, নতুন নতুন বাজার খুঁজে পাওয়া যায় এবং নতুন নতুন পণ্য আমরা যাতে রপ্তানি করতে পারি সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

বরাবরের মতো এবারও সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইবিপি) যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনকে সামনে রেখে দৃষ্টিনন্দন করে এবারের মেলাকে সাজানো হয়েছে। মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৮৩টি স্টল থাকছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্যাভেলিয়নকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের মেলা প্রাঙ্গণের গেটের ফিতা কেটে মেলা উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভেলিয়ন ঘুরে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী বক্তৃতায় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প খাতের বিকাশে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এর রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। শিল্পটির বিনিয়োগ আকর্ষণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’ পণ্যভিত্তিক রপ্তানিকে উত্সাহিত করার জন্য প্রতি বছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণার রীতি অনুযায়ী অতীতে চামড়া এবং পাটকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করায় এগুলোর বিকাশ ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ভোক্তার বাজার নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গেটওয়ে হওয়ায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ভোক্তার সঙ্গে সংযুক্ত। বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমি কূটনীতিক এবং বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাব যে, উইন-উইন পরিস্থিতির জন্য ব্যবসার সুবিধার্থে বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিন।’ এসময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের অনলাইনভিত্তিক ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, অন-লাইন পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্যোগ গ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ এবং ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তার সরকারের নানাবিধ উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যত বেশি ডিজিটাল ডিভাইস উত্পাদন, ব্যবহার এবং রপ্তানি করতে পারব, আমাদের অর্থনীতিতে তা তত বেশি অবদান রাখবে। আমি মনে করি, আইসিটি সেক্টরটাই আমাদের সব থেকে বড়ো একটা সেক্টর হবে ভবিষ্যতে। এই পণ্য রপ্তানি করে আমরা বিশাল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবো।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন এবং এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ইয়াসমিন স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বাণিজ্য খাতের অগ্রগতির ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র সচিব, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রপ্তানিকারকবৃন্দ, মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।