৪৭ বছরেও যে গণকবরের খোঁজ নেয়নি কেউ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৫৬

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে পা রাখলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৪৭ বছরেও জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে অবস্থিত গণকবরে আজঅব্দি পা রাখেননি কোনো সরকারি কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধি। সেটি আসেনি সরকারের নজরে। অবশেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল গণকবরটি পরিদর্শন করলেন। গণকবরটি মনাকষা ইউনিয়নের হুমায়ূন রেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত।

সকাল ৯টায় গণকবর পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাপরাধীর মামলার বাদি বদিউর রহমান বুদ্ধু, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী জেন্টু আলি, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড মনাকষা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কুরবান আলি, মনাকষা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ উদ্দিন,শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফিকুল ইসলামসহ মনাকষা ইউনিয়নের সকল মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

এ সময় ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের নাম স্মরণীয় করে রাখতে গণকবরের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই গণকবর পরিদর্শন। মনাকষা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের নামের তালিকা তৈরি করে গণকবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা পূর্বক তাদের নামের ফলক তৈরি করা হবে। এ জন্য কিছুটা সময়ের দরকার। সরকার ১৯৭১ সালে শহীদ পরিবারগুলোকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, যা অল্পদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। 

আরও পড়ুন: ক্ষেত নষ্টের অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অপমানে আত্মহত্যা

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ৭ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পারচৌকা, খড়িয়াল হাউসনগর, সিংনগর, রানীনগর, বনকুলসহ কয়েকটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার আত্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩ জন নিরহ মানুষকে দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকহানাদার বাহিনী বাড়ি থেকে ধরে আনে। পরে হুমায়ূন রেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে এক রাজাকারের জমিতে ছোট একটি গর্তে ফেলে গুলি করে হত্যা সামান্য মাটি চাপা দেয়। 

শহীদরা হলেন- পারচৌকা গ্রামের মুসলিম উদ্দিন ও তার ৪ ভাই আবোল হোসেন, এসলাম আলি, আমজাদ হোসেন, খোকা ও একই গ্রামের শামসুদ্দিন ম্যাটলা,  হাউসনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ, গুদোর আলি, ফরিদ উদ্দিন, সিংনগর গ্রামের জুনাব আলি,  হাউসনগর গ্রামের রফিক মেম্বার, ফাইজুদ্দিন, বনকুল গ্রামের ভুরোনসহ মোট ১৩ জন। তাছাড়াও আরও কয়েকদিন পরে একইভাবে হুমায়ূন রেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পূর্ব কোণে বর্তমান মনাকষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সোবহানের পিতা জসিম উদ্দিন, চাচা ফজলুর রহমান, মুকুল ডাক্তারের ক্লিনিকের পিছনে রানীনগর গ্রামের কুদ্দুস, পারচৌকা গ্রামের তোবজুল, খড়িয়াল গ্রামের সাইফুদ্দিন দফাদার, আরশাদ আলি, কালিগঞ্জ গ্রামের তোবজুল আলিসহ মোট ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে এইভাবে দুই জায়গায় পুঁতে রাখে  পাকবাহিনী। শুধু তাই নয় এ সমস্ত শহীদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

ইত্তেফাক/এসি