শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় আবারও মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালালে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ করলে কমপক্ষে ২০ শ্রমিক আহত হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রায় অর্ধশত কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের হেমায়েতপুর বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামস স্টাইলিং ওয়্যারস লিমিটেড ও টিসিএল-২ এর প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক কারখানায় প্রবেশের পর মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে আশপাশের কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালায়। এ সময় কর্তৃপক্ষ ঝামেলা এড়াতে প্রায় অর্ধশত কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন কারখানা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক মজুরী পুনঃনির্ধরনের দাবিতে হেমায়েতপুর-সিংগাইর ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অবস্থান নিলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ শ্রমিক আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এর আগে বুধবার দুপুরের পরও স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ ও ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
অন্যদিকে একই দাবিতে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার এ.আর.জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড এবং মেট্রো নিটিং এন্ড ডাইং মিলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও মজুরী বৈষ্যমের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।
শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক সানা শামিনুর রহমান বলেন, 'শ্রমিকরা না বুঝে বেতন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কারখানায় বিক্ষোভ করেছে। এ সময় আমরা অনেক কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদেরকে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তারা শান্ত হয়ে কাজে যোগদান করে। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক তাদের অযৌক্তিক দাবিতে অনড় থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এ সময় আমরা তাদেরকে বাঁধা দিলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জলকামান ও লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটির পাশপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জলকামান, সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।'
ইত্তেফাক/নূহু
