ধর্মীয় আদর্শ, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা থাকলে মহান সৃষ্টিকর্তা তার প্রতি সদয় থাকেন এবং পুরসৃ্কত করেন। এমনই এক অনুসরণীয় ইসলাম প্রচারক সিরাজগঞ্জের খাজা বাবা ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রহ)। শিশুকালে পিতা হারিয়ে অভাব আলীঙ্গন করা খাজা ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রহ) ইসলাম প্রসারে নিবেদিত থাকার পাশাপাশি সুফিবাদের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ধর্মীয় নেতা ও ওলিয়ে কামেল পিরে পরিণত হন। সাধারণ কাপড় ব্যবসায়ী থেকে তিনি কর্মময় জীবনের মাধ্যমে সুফিবাদকে সমগ্র বাংলা ও ভারতের আসামে প্রতিষ্ঠিত করেন। পাশাপাশি মানবিক কল্যাণকর নানা কাজে মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসার দর্শন রেখে যাওয়ায় প্রয়াত হলেও কোটি কোটি ভক্তের মাঝে বেঁচে রয়েছেন। ইসলাম ও তার দেখানো মানবতার দর্শন প্রচারের লক্ষ্যে ভারতের আসামে ১ হাজার ২০০ পির-আউলিয়া তাদের খানকা বা দরবার প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। তারা প্রচার করছেন রাসুলুল্লাহ (স)-এর সত্য তরিকা ও শান্তির বাণী। পিরানে পির দস্তগির খাজা এনায়েতপুরী (রহ)-এর দরবার শরিফে আজ ৩ জানুয়ারি ১০৫তম বাত্সরিক ওরশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা দেশের সর্ববৃহত্ ধর্মীয় মহাসমাবেশ বলে বিবেচিত। খাজা এনায়েতপুরী (রহ)-এর পুত্র খাজা মোজাম্মেল হকের লেখা ‘খাজা বাবার সাধনাজীবন’ এবং ‘ডা. মীর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন শ্রোদ্ধা স্মারক’ বই থেকে জানা যায়, আধ্যাত্মিক সুফি সাধক হযরত খাজা বাবা ইউনুছ আলী (রহ) মূলত ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত। তার পূর্বপুরুষেরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে একটি বাণিজ্যবহরের সহযোগী হয়ে বাগদাদ থেকে ভারতবর্ষে আসেন। তত্কালীন দিল্লির সুলতান তাদের সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে রাজ্যনুকূলে দিল্লি ও এর আশপাশে বসবাসের সুযোগ করে দেন। এই অভিবাসী আউলিয়াবর্গের একটি দল বাংলায় এসে মুর্শিদাবাদ, ফরিদপুর (গেদ্দা শরিফ), ময়মনসিংহের জা’ফর শাহী পরগনার বনভূমি এবং পরবর্তী সময়ে পাবনার আমীনপুর ও এনায়েতপুরে এসে বসবাস শুরু করেন। হযরত শায়খ মোহাম্মদ ইসমাইল (রহ) ও শায়খ মোহাম্মদ বাহাদুর (রহ) বাংলায় বসতি স্থাপন করা সেই আউলিয়াদের অন্যতম। তারা ছিলেন একে অপরের মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং বড়োপির আবদুল কাদির জিলানির সিলসিলাভুক্ত। হযরত শায়খ মোহাম্মদ ইসমাইল (রহ) ছিলেন শাহ সুফি খাজা বাবা ইউনুছ আলী (রহ)-এর পূর্বপুরুষ। প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে এনায়েতপুরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন জনশূন্য একটি বনাঞ্চল ছিল। তখন তারা নিভৃত এই এলাকায় এসে আল্লাহর কৃপাপ্রাপ্ত অঞ্চল হিসেবে গ্রহণ করে এর নামকরণ করেন ‘এনায়েতপুর’। পিতা শাহ আবদুল করিম (রহ.) ও মাতা তামান্না বেগম (রহ)-এর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে খাজা ইউনুছ আলী (রহ) ছিলেন সবার বড়ো। তিনি ১৮৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, ২১ কার্তিক ১২৯৩ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ৫ জানুয়ারি রোববার সকালে দরবারের বর্তমান গদিনশিন পির হযরত খাজা কামাল উদ্দিন (নুহু মিয়া)-র মোনাজাত পরিচালনায় বিশ্বমানবতার মঙ্গল কামনা করে বাত্সরিক ওরশ শরিফের সমাপ্ত হবে।
—লেখক :ইত্তেফাকের চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
