শিক্ষার সঙ্গে চাই বাস্তবের মেলবন্ধন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৯

বিগত বত্সরের শেষ দিনটিতে প্রায় অর্ধকোটি পরিবারে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। কারণ এই দিনেই এইবার সারা দেশে জেএসসি ও জেডিসি এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হইয়াছে একযোগে। যাহারা এই দুইটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছে তাহাদের আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। যাহারা কোনো কারণে পাশ করিতে পারে নাই, তাহাদের জন্যও আমাদের রহিল শুভ কামনা। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে তাহারা মনোযোগ দিয়া পড়াশুনা করিবে এবং পরীক্ষায় সফলকাম হইতে পারিবে। এই পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জীবন চলিবার বহু পথ পড়িয়া রহিয়াছে বিধায় হতাশ হইবার বিন্দুমাত্র কারণ নাই।

এইবারের ফলাফল বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায়, জেএসসিতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই বাড়িয়াছে। তবে মাদ্রাসার জেডিসিতে পাশের হার বাড়িলেও কমিয়াছে জিপিএ-৫। ইহা ছাড়া প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাশের হার যেমন কমিয়াছে, তেমনি কমিয়াছে জিপিএ-৫ সংখ্যাও। অর্থাত্ অতি কোমলমতি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই এবার কিছুটা আশাহত হইয়াছে। কিন্তু কেন এই খারাপ ফলাফল তাহারও যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে। বলা হইতেছে, এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে পরিবর্তন আনা হইয়াছে। এক উপজেলার খাতা মূল্যায়ন করিয়াছেন অন্য উপজেলার পরীক্ষকগণ। এই জন্য গতবারের চাইতে কিছুটা খারাপ ফল হইয়াছে। তবে এই পদ্ধতিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে আরো স্বচ্ছতা আসিয়াছে। সুতরাং এই খারাপ ফলাফলও এক অর্থে আমাদের জন্য শুভ। বরাবরই খারাপ ফলাফলের বড়ো কারণ হইল ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা। এই দুই দুর্বলতা আমাদের জাতীয়ভাবে কখন কাটিয়া উঠিবে তাহা আমরা কেহই বলিতে পারি না। এইজন্য ভালো মানের ইংরেজি ও অঙ্ক শিক্ষক তৈরিই হউক ইহাই আমাদের লক্ষ্য। এইবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় পাশের হার বিবেচনায় আট বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগ শীর্ষস্থান অধিকার করিয়াছে। ইবতেদায়িতে সবচাইতে ভালো করিয়াছে রাজশাহী বিভাগ। এই প্রতিযোগিতা ও সাফল্য অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক। তবে প্রতিবারের মতো এইবারও শহরের স্কুলগুলি তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করিয়াছে। গ্রামের স্কুলগুলি কেন এখন পিছাইয়া পড়িতেছে তাহা নিয়া চিন্তাভাবনা করিয়া দেখা দরকার।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লইয়া স্কুল-মাদ্রাসাগুলিতে আনন্দের বন্যা বহিয়া যাইবে ইহাই প্রত্যাশিত। কিন্তু মনে রাখিতে হইবে ইহাই সবকিছু নহে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আসলে আমাদের শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি রচনা করিবার সময়। এই সময় রেজাল্টের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হইল বেসিক এডুকেশনের উপর জোর দেওয়া। কেননা কোনো কারণে ভিত্তি দুর্বল হইলে তাহার উপর বিশাল বিশাল অট্টালিকা যেমন গড়িয়া উঠিতে পারে না, তেমনি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভ করাও দুরূহ হইয়া পড়ে। সুতরাং স্কুল-মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক ও অভিভাবকদের মনে রাখা প্রয়োজন, তাহাদের শিক্ষার্থী ও ছেলেমেয়েরা কতটা শিখিল ও আত্মস্থ করিতে পারিল, তাহাই বড়ো বিষয়। এমনকি সেই শিক্ষা কতটা আনন্দের সহিত গ্রহণ করিল ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলাইয়া লইতে পারিল, তাহাও উপেক্ষা করা যাইবে না।