ঐতিহ্য

পালকি চলে উহুম্ না...

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৬

 

‘উহুম্ না-রে-উহুম্ না...’ সবুজ শ্যামল গ্রামের পথ দিয়ে হেঁটে চলছে বেহারার দল, কাঁধে পালকি। বাঙালির হাজার বছরের লোক সংস্কৃতির স্রোতধারায় মিশে আছে পালকি। এ পালকি কয়েক যুগ আগেও আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রচুর দেখা যেত। সাধারণত বাহন হিসেবেই পালকি ব্যবহূত হতো জমিদার-জোতদার থেকে শুরু করে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে। নব বিবাহিত ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমনাগমনের অন্যতম প্রধান বাহন ছিল। কোনো গ্রামে বিয়ে হচ্ছে অথচ সেখানে পালকির উপস্থিতি নেই এটা যেন ভাবাই যেত না। বিয়ের আসরে পালকির উপস্থিতি ছিল অবশ্যাম্ভাবী। পালকি শুধু বর-বধূকে আনা-নেওয়ার সাধারণ বাহনই ছিল না। বিয়ের অনুষ্ঠানকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করার জন্যও পালকির প্রয়োজন হতো।

পালকি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত পল্যঙ্ক বা পর্যঙ্ক থেকে। তবে পালি ভাষাভাষিরা এটিকে পালাঙ্কো, তামিলরা বেড বা কোচ বলে থাকে। তবে বাংলা, হিন্দি ও তেলেগু ভাষাভাষিদের কাছে এটি পালকি নামেই পরিচিত। অপরদিকে ইংল্যান্ডে শিবিকা বা ডুলি, ভারতে পালকি, কোরিয়ায় গামা নামে পরিচিত এ বাহনটি।

গ্রাম বাংলার একসময় নিত্যদিনের বাহন ছিল পালকি। যানবাহন উন্নয়নের ফলে এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে বাংলাদেশের এককালের এই ঐতিহ্যবাহী বাহন বিদায় নিয়েছে। এক সময় পালকি চড়ে নতুন বধূ শ্বশুরবাড়ি যেত। আছে সেই সবুজ শ্যামল গ্রাম আছে নতুন বধূ। কিন্তু নেই পালকি। প্রায় চল্লিশ দশক আগেও বাঙালি সমাজে পালকিবিহীন বিয়ে চিন্তাই করা যেত না। মেঠোপথ দিয়ে বর হেঁটে যাচ্ছে অথবা বর-কনে একসঙ্গে পালকিতে চড়ে যাচ্ছে—এ দৃশ্য ছিল খুব চেনা।

সময়ের ধারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু বাঙালির মূল ঐতিহ্যের সন্ধান করতে গেলে অধুনালুপ্ত বা লুপ্ত অনেক জিনিসের মতো পালকিও বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্য হিসেবে আজো হাতছানি দেয়।